Hungryalism লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
Hungryalism লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ১০ মে, ২০২০

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা মলয় রায়চৌধুরীর ১৬.৬.১৯৬৩ তারিখের পোস্টকার্ড

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা মলয় রায়চৌধুরীর ১৬.৬.১৯৬৩ তারিখের পোস্টকার্ড

কী ঠিক করলেন সুনীলদা ? হাংরি জেনারেশনের de jure নেতৃত্বটা গ্রহণ করবেন, নাকি de facto নেতাকেই নেতা ভেবে রাগ করে থাকবেন ?
মলয়

শনিবার, ৯ মে, ২০২০

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়-এর ২১.১.১৯৬১ তারিখের চিঠি

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়-এর ২১.১.১৯৬১ তারিখের চিঠি

প্রিয় সুনীলবাবু,
.
মাত্র এই পৃষ্ঠা এবং এর উল্টোপাতাটুকু লিখব, অর্থাৎ আগে থেকেই একটা সংযম আরোপ করে নিচ্ছি । চিঠিটা পাঠাব অনেকদিন পরে, অর্থাৎ শেষ পর্যন্ত পাঠাব কিনা খুবই সাবধান হয়ে গেছি আমি ।
.
এই সাবধানতা, আপনার সম্পর্কে, মূলত একটিমাত্র কথা, যা আপনাকে জানানোর । আপনার ব্যবহার আমাকে সাবধান করে দিয়েছে । কোনোরকম সচেতন মনোযোগ না দিয়ে, শেষের দিকে আমি আপনার সঙ্গে মেলামেশা করছিলাম; যাবতীয় সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও ধরে নিয়েছিলাম আমি আপনার বন্ধু । যে-ভাবেই তার সংজ্ঞা করা যাক, যে-কোনো বিরুদ্ধতা সত্ত্বেও আপনাকে আমার বন্ধু ভেবেছিলাম ।শেষ পর্যন্ত এই ধারণা আমার হয়ে গিয়েছিল । শেষ পর্যন্ত মানে এই যে তার আগে বহুদিন তা হয়নি, বহু সময় লেগেছিলল এ-জন্যে অনেক স্বার্থত্যাগ ( চারিত্রিক ) আমি করেছিলাম, দাম দিয়েছিলাম এর । পুরো দাম দিলে একটা জিনিশ আমি পাব, আমি আশা করেছিলাম । তারপর আপনি আমাকে সাবধান করে দিলেন ।
.
৬-ই ডিসেম্বরে মধ্যরাতে ইডেন হসপিটাল রোডের মুখে দাঁড়িয়ে যে-সব কথা আপনি আমাকে বলেন, তা-ই আমাকে সাবধান করে দেয় । অবশ্য অতটা অপ্রত্যাশিত লাগা উচিত হয়নি, কারণ গত এক বছরে মাঝে-মাঝেই অপমান করেছেন, কোথাও একটা প্রত্যাশা আমার সেদিন থাকা উচিত ছিল । সত্যি, আজ মনে পড়ছে অনেকবার, পাঁচ বার কি ছ’বার, আমাকে সকলের সামনে অপমান করেছিলেন । অপমান করা আপনার সঙ্গত হয়েছিল কি হয়নি, সে-কথা ভাবছি না । কারণ, এটাই ভাবছি যে, অপমান হচ্ছে অপমান । এবং বন্ধুকে কেউ অপমান করে না ।
.
যে বন্ধু নয়, অবশ্য তাকে করে। কিন্তু ওই যে বললাম, আমার শেষ পর্যন্ত ধারণা জন্মে যায় যে আমি আপনার বন্ধু, বা আরো কতো বড়ো ভুল, আপনি আমার বন্ধু । আগের অপমানগুলি আমি ক্রমশ ভুলে যাই । কিন্তু আপনি অনুতপ্ত দেখে ৬-ই ডিসেম্বরের অপমানও আমি পাছে ভুলে যাই, তাই পরদিন হাসতে-হাসতে, ‘কী মশাই, are you angry with me’ জিজ্ঞাসা করেছিলেন বলে আজ পর্যন্ত আপনাকে ধন্যবাদ জানানোর সুযোগ আমার হয়নি।
.
শেষ পর্যন্ত আপনার অনুরক্ত হয়ে পড়া ছাড়া আমার উপায় ছিল না । বন্ধুত্ব আমার কাছে বড় আশার জিনিশ ছিল । অন্য কোনো human value সম্পর্কে আমি সুনিশ্চিতভাবে জানতে পারিনি, যেমন প্রেম, ভাতৃত্ব, দেশ বা বাবা-মার সম্পর্কে অনুভব, এইসব । বন্ধুত্ব সম্পর্কে কিছুটা পেরেছিলাম । যতদিন ভুল ধারণা ছিল, বন্ধুত্ব ছিল বেঁচে থাকার একটা আশ্বাস, একমাত্র মানে ।
ইতি
প্রীতিসহ
সন্দীপন

রবিবার, ৭ এপ্রিল, ২০১৯

সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা সমীর রায়চৌধুরীর চিঠি

কোচিন
৮.১.১৯৬৩
সুনীল,
তোর ২৭/১২ তারখের চিঠি পরে পেলাম । আমার এই ট্রেনিঙ মোটেই ভালো লাগছে না । ফলে মনমেজাজ কৃষকের মতো হয়ে গেছে । ট্রেনিঙটা ছেড়ে যাবারও সাহস নেই, তাহলে চাকরী যাবে । চাকরী গেলে বউ, আবার এই ফেব্রুয়ারিতেই ছেলে বা মেয়ের সিকিউরিটির ভার পড়বে । ফলে কোনো মতে জুন অব্দি এই কষ্ট সহ্য করতে হবে । জুনের পর এক বছে টুর । টুর মন্দ লাগে না ঘুরতে ঘুরতে । সমুদ্র সম্পর্কে প্রচণ্ড বিরক্তি ধরে গেছে । সমুদ্র দেখলেই ভীষণ ক্রোধ হয়, যেন প্রতিদ্বন্দ্বী আমার ।

বেলাকে নিয়ে ঘর করা খুব সুখকর । ভারী সরল ও নিপুণ মেয়ে । মনের মতন বউকে মেয়েমানুষ মনে হয় না, বরং বন্ধু ঘনিষ্ঠ অতি । নিজেকে খুব সিকিওর্ড মনে হয় । আমার মনে হব পৃথিবীর যেকোনো নারীর সঙ্গে একটা অন্তঃশীল মাতৃত্বের সম্পর্কই সব চেয়ে সুখময় । অনেক বঢ় হয়ে গেলেও আমাদের শিশু মরে যায় না, ঝরে যায় না । তোর মা এবং ভাইবোনেদের সঙ্গে কলকাতায় থাকা ছাড়া আর কোনো কিছুকেই আমার ঈর্ষা হয় না । মেয়েমানুষ সম্পর্কে তোর মতামত আমি মানি না । এটা ঠিক যে মেয়েমানুষের কাছে কেবল লিঙ্গ উপস্হাপনার কোনো অস্তিত্ব নেই । সব মেয়েমানুষ সমান নয় । ফলে মেয়েমানুষ খুঁজে বের করাই কঠিন ।

কৃত্তিবাসের জন্য আমি ৬০ টাকা দেবো । যখনই দরকার তৎক্ষণাৎ পাঠাব । এখনই কি পাঠাবো ? পাঠাচ্ছি না এই জন্য যাতে কৃত্তিবাসের ঠিক প্রয়োজনের সময় পাস । নয়তো খরচা হয়ে যাবার বিড়ম্বনা তোর হয়তো হতে পারে । যাই হোক, আমাকে যখনই বলবি, পাঠাবো । ঐ কাগজগুলো সম্পর্কে ভাবিস না, শক্তির বন্ধুত্বে ও আমার নষ্ট সম্পত্তির মধ্যে আমি ধরে নিয়েছি ।

হাংরি জেনারেশনের প্যামফ্লেট-এ যা লিখেচি সে হয়তো তোরই বক্তব্য । তোর কি ভালো লাগেনি ?

কৃত্তিবাসের জন্য একটা ভালো গদ্য লিখেছি । শীগগিরই পাঠাবো । প্রেমিক-প্রেমিকারা পরস্পরকে যাকিছু দেয় তারই পরিণতি সম্পর্কে বক্তব্য । জানি, মেঘ, গান, মূর্তি প্রত্যেকটির গমনাগমন তুলে ধরার চেষ্টা করেছি । অর্থাৎ এই পাখি আকাশ না খুঁজে খাঁচা চায়, মেঘ শষ্যের দিকে ডোবে । গান প্রতিধ্বনি আনে না । পাঠালে হয়তো বুঝতে পারবি ।

অলোকরঞ্জনের হয়তো অকারণে কিছু ইনফিরিয়রিটি কমপ্লেক্স আছে, ওর নিজের ঈশ্বর সম্পর্কে । আমি অলোকরঞ্জনকে একবারই দেখেছিলাম বালিগঞ্জে । কথাবার্তায় একথাটা আমার মনে হয়েছিল । কেন ঠিক মনে নেই । তখন শক্তিকে বলেছিলাম ।

চিঠি দিস । প্রীতি রইলো ।
সমীর