সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১৮

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের চিঠি : সমীর রায়চৌধুরীকে

17 Ratanbabu Road
Calcutta -2
Phone 528505
প্রিয় সমীর
মাঝখানে একটা পোস্টকার্ড দিয়েছিলুম । উত্তর দাওনি যথারীতি । যাইহোক । বেলা, হানি, টোটন, বিটুকে নিয়ে সবাই ভালো আছেন এবং থাকবে জানি । তুমি যমাতি ।
কলকাতায় খুবই নিরাপদ কাটছে । শীতলের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক -- নার্সিংহোমে । বিপদ কাটছে । এস. সি. চৌধুরী, আইসিসিইউ, উডল্যাণ্ড নার্সিং হোম, আলিপুর, কলকাতা -২৭ এই ঠিকানায় ওকে চিঠি দিও । ইনটেনসিভ কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে আছে  আজ দিন দশেক । আমার মতন থাই-ল্যাণ্ডের অর্কিড  ( প্যারাসাইট ) এখন মহীরুহচ্যূত ।
কৃত্তিবাস শারদীয় বেরিয়েছে । ১০১ টি জীবনানন্দের কবিতা* এবং আমার গল্পের জন্য এবার গুদামসাফ রেকর্ড বিক্রি হয়েছে । এছাড়া আমি আর একটা গল্প লিখেছি শারদয় এক্ষণ-এ । দুটোই বেশ বড়ো গল্প । যথেষ্ট ভালো লিখেছি । তাই শ্মশানের শান্তি মনে জেগেছে ।
আর এক কথা । আমার ভাইঝি ডা. মিতালি গাঙ্গুলি, এমবিবিএস, ও তার সদ্যবিবাহিত স্বামী রুনু গাঙ্গুলি ( প্রশান্ত ) এনজিনিয়ার -- এরা বরাইবুরুতে ১১, ১২, ১৩, ১৪ নভেম্বর থাকতে চায় । ঐ চারদিন বুক করে আমাকে টেলিগ্রাম করবে কী, ফোন ? 
চিঠির উত্তর দেবে কী ?
সন্দীপন ।
*১০১ জীবনানন্দের অগ্রন্হিত কবিতা : সম্পাদনা সুব্রত রুদ্র ।
( হাংরি আন্দোলন মামলায় পুলিশের পক্ষে সাক্ষ্য দেবার পর সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমীর রায়চৌধুরীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল । সমীর কারোর চিঠির উত্তর দিতেন না । কিন্তু তথাকথিত বন্ধুরা সমীর রায়চৌধুরীকে যখন ইচ্ছা এক্সপ্লয়েট করেছেন । সমীর রায়চৌধুরী "হাওয়া৪৯" পত্রিকা সম্পাদনা আরম্ভ করলে এই বন্ধুরা তাঁকে নিজেদের গল্প-উপন্যাস দিয়ে সাহায্য করেননি । )

শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের চিঠি : সমীর রায়চৌধুরীকে

১৯ কর্ণেল বিশ্বাস রোড
কলকাতা ১৯
সমীর,
গত সপ্তায় শান্তি খুকু আর বাচ্চাদের নিয়ে চাইবাসা গেল । ওর কাছে তোর চিঠি দেখলাম । কেমন আছিস ? বহুকাল দেখিনি তোদের । ভেবেছিলুম চলে যাবো তোদের দেখতে, মেয়ে আটকে দিল । ওর পরীক্ষা চলছে । আমি থাকলে, নাকি ওর সাহায্য হবে ।
গরমের ছুটিতে তোরা নাকি আসছিস ? কবে আসবি চিঠিতে জানাস ।
তোর বাঁশদ্রোণীর বাড়িটা ভুতুড়ে বাড়ির চেহারা নিয়েছে । তুই তো কালীদাকে চিনিস । কালীদার কমপাউণ্ডার বা Guiding Angel বলতে পারিস কানাইকে । ও কালীদার Chamber-এ থাকে । আমি বলছিলুম Chamber  এর পর ও যদি তোর বাড়িতে গিয়ে রাতটা কাটায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজটা করে তাহলে ভালোই হয় । তোর আর বেলার কী মত ? তাহলে তোরা এলে আমি একদিন কানাইকে নিয়ে যাব । আমরা ভালো আছি । হনিবাবু, টোতন, বিটুকে আমার আশীর্বাদ দিস । বেলা কেমন আছে ? তোরা আমার ভালোবাসা নিস ।
শক্তি
৫ এপ্রিল ১৯৮১
( হাংরি আন্দোলন মামলায় পুলিশের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ায় শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমীর রায়চৌধুরীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল । বন্ধুবৎসল সমীর রায়চৌধুরীকে তাঁর বন্ধুরা কেমন এক্সপ্লয়েট করতেন এই চিঠিটি তার নিদর্শন । সমীর রায়চৌধুরী "হাওয়া৪৯" পত্রিকা প্রকাশ করা আরম্ভ করলে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে লেখা দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে যাননি । সমীর রায়চৌধুরীর গল্প ও প্রবন্ধ অন্যত্র প্রকাশের ব্যবস্হাও তাঁরা কখনও করেননি ; কেবল তাঁকে ব্যবহার করেছেন । শক্তি চট্টোপাধ্যায় দুই বৎসর সমীর রায়চৌধুরীর চাইবাসার বাসায় অতিথি হয়ে ছিলেন । )
শান্তি - কবি শান্তি লাহিড়ী
খুকু - শান্তি লাহিড়ির স্ত্রী, সমীরের ছোট শ্যালিকা
বেলা - সমীরের স্ত্রী
হনি - সমীরের মেয়ে
টোটন, বিটু - সমীরের ছেলে

বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১২

অ্যালেন গিন্সবার্গকে লেখা আবু সয়ীদ আইয়ুব-এর চিঠি

কলকাতা                                                                 ৩১ আক্টোবর ১৯৬৪
প্রিয় মিস্টার গিন্সবার্গ
আমি আপনার ১৩ তারিখের অকারণে অসৌজন্যবিশিষ্ট চিঠিটি পেয়ে বিস্ময়াভিভূত । আপনি যে কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডামকে সাম্যবাদীদের বক্তব্যানুযায়ী জোচ্চোর ও ষাঁড়ের-গোবর বদান্য-বুদ্ধিবাদী কম্যুনিস্টবিরোধী সঙ্ঘ বলে মনে করেন, তা বলাবাহুল্য, আমাকে অবাক করেনি ; কেননা আমি কখনও কংগ্রেসকে 'বুর্জোয়া' ও 'সন্মানীয়' হিসাবে হেয় করার আপনার অভিযোগ অস্বীকার করব না ।
কোনও সুপরিচিত সাহিত্যিক বা বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে তাদের সাহিত্যিক কর্মের জন্য যদি পুলিশ নির্যাতন করে  তাহলে আমি নিশ্চিত যে ইনদিয়ান কমিটি ফর কালচারাল ফ্রিডাম আপনার অসন্মানজনক প্ররোচনা ব্যতিরেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে । আমি আপনাকে জানাতে আনন্দ বোধ করছি যে সাম্প্রতিককালে তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি । মলয় রায়চৌধুরী ও তার হাংরি জেনারেশনের সদস্যরা, আমার জ্ঞানানুযায়ী, কোনও বিশেষ সাহিত্যিক অবদান রাখেননি, যদিও তাঁরা বহু আত্মবিজ্ঞাপনমূলক  লিফলেট লিখেছেন ও বিতরন করেছেন ; এবং নোংরা ও অশালীন ভাষায় সন্মানীয় নাগরিকদের গালমন্দ করেছেন ( আশা করি "গাঙশালিক কাব্যশৈলীর জারজদের ধর্ষণ করো" বাক্যটিতে 'ধর্ষণ' শব্দটি অশ্লীল ও 'জারজ' শব্দটি নোংরা হিসাবে আপনিও মেনে নেবেন; ওরা এর চেয়েও খারাপ ভাষা বহু কবির ক্ষেত্রে নামোল্লেখ করে প্রবোগ করেছে ) । সম্প্রতি ওরা এক মহিলাকে ভাড়া করে জনসমক্ষে তার উন্মুক্ত বুক প্রদর্শনের ব্যবস্হা করেছিল এবং সেই চমৎকার আভাঁ গার্দ প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করার জন্য অনেকের সঙ্গে আমাকেও নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল ! কলকাতায় অমন বালখিল্য রঙ্গকৌতুককে বিশ্বের অপর পার থেকে উৎসাহ দেয়াকে আপনি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতি কর্তব্য বলে মনে করতে পারেন । আমার কর্তব্য সম্পর্কে আপনার সঙ্গে মতবিরোধের অনুমোদন আপনি করবেন আশা করি ।
এই যুবকদের পাতা ফাঁদে পড়া এবং কয়েকজনকে কয়েকদিনের জন্য হেফাজতে নেয়া পুলিশের পক্ষে নিঃসন্দেহে বোকামি হয়েছে ( তাদের সবাইকে এখন ছেড়ে দেয়া হয়েছে ), এবং তার মাধ্যমে এদের প্রচার ও জনগণের সহানুভূতির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে--- রঙ্গকৌতুকের মাধ্যমে তারা প্রধানত প্রচার পেতেই চাইছিল ।
আমি মনে করি না যে আমেরিকান বিটনিক কবিতার এই সমস্ত অপরিণত অনুকরণকারীদের সমর্থন করা ইনডিয়ান কমিটি ফর কালচারাল ফ্রিডামের প্রধান কাজ । ইউরোপীয় সাহিত্য সম্পর্কে আপনার জ্ঞানকে আমি শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আমার ভাষার সাহিত্যিকদের সম্পর্কে আপনার মতামতের দ্বারা আমি নিজেকে চালিত করার অনুমতি দেব না--- যে ভাষা সম্পর্কে আপনি নিজেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ রাখার অবস্হানটি বেছে নিয়েছেন ।
আমাদের পরস্পরের গভীর মতবিরোধ সত্ত্বেও, এবং আপনার কয়েকটি অপূর্ব কবিতার প্রতি মুগ্ধতাবোধসহ শুভেচ্ছা জানাই ।
ভবদীয়
আবু সয়ীদ আইয়ুব 
( সমীর রায়চৌধুরী ও কয়েকজন হাংরি আন্দোলনকারী পরবর্তীকালে আইয়ুব সাএবের সঙ্গে দেখা করলে তিনি স্বীকার করেন যে চিঠিতে ব্যবহৃত তথ্যের জন্য তিনি অন্যের উপর নির্ভর করেছিলেন; তিনি স্বয়ং তথ্যগুলি যাচাই করার প্রয়াস করেননি । )
     

বৃহস্পতিবার, ৩ মে, ২০১২

অনিল করঞ্জাই ( সমীর রায়চৌধুরীকে লেখা )

বেনারস
১০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩

কী সমীর ?
      খুব তো 'খেউড়' দুর্গাপুজোর আগে... লেখা না পাঠালে কিছুই ভাবা সম্ভব নয়... কবিতার বইও ফেঁসে রইলো ভাষাতেই...আমি দিন-রাত লেগে আছি...নানান কাজে । পয়সাকোড়ি কিছুই থাকে না... কী কোরি ? মলয়কে বোলো ভ্যান গঘ লেখাটা অনুবাদ কোরে পাঠাতে । 'আমুখ'-এ ছাপবে কাঞ্চন। আমার অ্যাব্সট্র্যাক্ট পেইনটিং-এর বইটা প্লাস আর্তোর অ্যানথোলজি বাই পোস্ট পাঠাও । দরকার আছে। নভেম্বরে দিল্লি এগজিবিশান ঠিক-ঠাক । তোমরাও যাবে । ছোবি হোক। 'খেউড়' ব্যাপারটা ভেবেছো তো ? ঠিক কোরে পাঠাও।
                                                     অনিল  

কাঞ্চন মুখোপাধ্যায় ( সমীর রায়চৌধুরীকে লেখা )

বেনারস
২০ সেপ্টেম্বর ১৯৬৩
সমীর,
     এখান থেকে গিয়ে আর কোনো চিঠিই দিলে না। 'আমুখ-৫' তোমায় পাঠিয়েছি। পেয়েছ নিশ্চই। কলকাতায় পোস্টার লাগানোর কী হল ? কলকাতার ব্যাপারটা না হলে আমি দিল্লি যাচ্ছি । তুমি যাবে ?
ইতি
কাঞ্চন

করুণানিধান মুখোপাধ্যায় ( সমীর রায়চৌধুরীকে লেখা )

বেনারস
তারিখ মনে পড়ছে না
প্রিয় সমীর
      'খেউড়' পত্রিকার হাফপেজ স্কেচ সুবীরের করা প্রেসে ছাপতে চোলে গ্যাছে। সমীর, এর পর আমার, অনিলের, বিভাসের এক সঙ্গে যাবে আর সঙ্গে হাফ পেজ পোস্টার। পোস্টারটা এ্যামোন করা হোচ্ছে যা কভার ও পোস্টার দুটোতেই লাগবে-- এ্যাকটা দারুন আইডিয়ায় এই নতিজায় পোঁছোনো গ্যালো ল রোনজুর, তোমার আর কারুর লেখা পাঠাও 'খেউড়' এর জোন্নে-- যোদি কোনো আরও খবর থাকে তো পাঠাও 'খেউড়' এর জোন্নে। অনিল উঠে পোড়ে লেগেছে এ্যাখোন।
     মলয় ৫০ টাকা পাঠিয়েছে। ওই থেকে হাফপেজ লিথোতে ছাপতে দেয়া হোয়েছে । কাল ডেলিভারি পাবি। বাকি 'খেউড়' এর কি বাজেট হোতে পারে বা হবে তুমি জানাও। আমরা এ্যাকটা মোটামুটি বাজেট পরের চিঠিতে জানাচ্ছি ।
     মলয় লিখেছে আমায় তিন মাসের প্ল্যান দিয়ে। পোস্টার সম্বন্ধে আমি ওকে জানিয়ে দিলাম । সব তোমার হাওয়ালে । তুমি ওর সঙ্গে ইমিডিয়েট পত্রালাপ কোরে নাও --- তা না হোলে ওকে জানো তো ও আকাশেই পোস্টার দেখছে-- উড়ে আসছে...উড়ে আসছে...। চিঠিতে লিখেছে কি সব রাস্তার নুড়ির মত ঘুরে বেড়াচ্ছি । বোধ হয় প্রেমিকাদের কোনো হিং লেগেছে... সেই পোঁদে নিয়ে ঘুরছে ।
     আমার ধর্মগ্রন্হ 'সানপাকু' শেষ কোরলাম কাল রাত্রে । এখোন শুধু ফিরাক কোথায় আমার জোন্নে রাখা আছে ৪০০ টাকা---
      আরো যা হয় লিখো
                                                                করুণা 

                              

সোমবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০১২

ত্রিদিব মিত্র-র চিঠি ( মলয় রায়চৌধুরীকে লেখা )

 উন্মার্গ
সালকিয়া
হাওড়া
১৭/৭
ডিয়ার মলয়,
        পোস্টকার্ড পেয়েছ সম্ভবত। শুক্রবার পাঞ্জাব মেলে চাপছি। সুবিমলের সঙ্গে গতকাল হঠাৎ হাওড়া স্টেশানে দেখা, সন্ধেবেলা। ট্রেন ধরতে না পারায় সোমবার রাত্তিরে সিদ্ধি চলেছিল।
        সুভাষ ইদানিং নতুন সাকরেদ জোগাড় করেছে, কফিহাউস থেকে বা কফিহাউসে এনে। গদ্য ও কবিতার ওপর, হাংরিদের, অমিতাভ দাশগুপ্ত ও মোহিত চট্টোপাধ্যায়ের দুটো প্রবন্ধ ক্ষু.প্র.তে থাকছে। সে-ব্যাপারে উভয় ঘোষবাবু ও দাশগুপ্তবাবু, দাশগুপ্ত ও চাটুজ্জেবাবুর বাড়িতে ঘনঘন যাতায়াত, পাঞ্চিং, লিঞ্চিং ইত্যাদি ব্যাপারে বড়োই ব্যস্ত। সুভাষ প্রচার করত, ১৯৬০ সালে তুমি নাকি সুবোকে তুলে এনেছ।  AVANT GARDE   আদ্যপান্ত পড়েও খুঁজে পেলাম না। তাছাড়া হাংরি বুলেটিন প্রথম বেরোয় ১৯৬১-এর শেষে আর সুবোর লেখা গোলমাল হাংরি বুলেটিনে ১৯৬৩ তে, তখন আমার বাসায় থাকত।
        সুভাষ ক্ষু.প্র.র জন্যে ১ পৃষ্ঠার লেখা চেয়েছিল। এবং আমিও 'উন্মাগ'-র জন্যে সুভাষের। কিন্তু সুভাষবাবু এত ব্যস্ত কিংবা...
                                                       ত্রিদিব