যে চিঠি ইচ্ছে আপনার ম্যাগাজিনে প্রকাশ করতে পারেন। এক কপি এই ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলে হাংরি সংগ্রহালয়ে রাখা হবে। সমীর রায়চৌধুরী, বি-২৪ নর্দার্ন পার্ক, ব্রহ্মপুর, বাঁশদ্রোণী, কলকাতা ৭০০ ০৭০
রবিবার, ২৯ জুলাই, ২০১৮
হাংরি আন্দোলন সম্পর্কে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়
লেবেলসমূহ:
Hungry generation,
Hungryalism,
Sunil Gangopadhyay
সোমবার, ২৩ জুলাই, ২০১৮
হাংরি আন্দোলনের বিরুদ্ধে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের চিঠি
সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়-এর চিঠি মলয় রায়চৌধুরীকে : হাংরি কিংবদন্তি
আয়ওয়া, আমেরিকা, ১০ জুন ১৯৬৪
মলয়,
তুমি কলকাতায় কি সব কাণ্ডের বড়াই করে চিঠি লিখেছ জানি না । কী কাণ্ড করছ ? আমার বন্ধু-বান্ধবদের কেউ-কেউ ভাসা-ভাসা লিখেছে বটে কফিহাউসে কী সব গণ্ডোগোলের কথা ।
কিছু লেখার বদলে আন্দোলন ও হাঙ্গামা করার দিকেই তোমার লক্ষ্য বেশি । রাত্রে তোমার ঘুম হয় তো ? এসব কিছু না --- আমার ওতে কোনো মাথাব্যথা নেই । যত খুশি আন্দোলন করে যেতে পারো --- বাংলা কবিতার ওতে কিছু আসে যায় না । মনে হয় খুব একটা শর্টকাট খ্যাতি পাবার লোভ তোমার । পেতেও পারো, বলা যায় না । আমি এসব আন্দোলন কখনো করিনি ; নিজের হৃৎস্পন্দন নিয়ে আমি এতই ব্যস্ত ।
তবে একথা ঠিক, কলকাতা শহরটা আমার । ফিরে গিয়ে আমি ওখানে রাজত্ব করব । তোমরা তার এক 'চুলও' বদলাতে পারবে না । আমার বন্ধুবান্ধবরা আনেকেই সম্রাট । তোমাকে ভয় করতুম, যদি তোমার মধ্যে এখন পর্যন্ত একটুও জেল্লা দেখতে পেতুম । আমার চেয়ে কম বয়সিদের মধ্যে একমাত্র তন্ময় দত্ত এসেছিল বাংলা কবিতায় তলোয়ার হাতে, আমার চেয়ে অন্তত ছ'বছরের ছোটো---- কিন্তু জীবনানন্দের পর অত শক্তিশালী কবি এদেশে আর কেউ আসেনি । প্রচণ্ড অভিমান করে ও চলে গেছে । সেজন্যে এখনও আমি অপরের হয়ে অনুতাপ করি । আমি নিজে তো এখনও কিছুই লিখিনি , লেখার তোড়জোড় করছি মাত্র ; কিন্তু তোমার মতো কবিতাকে 'কমার্শিয়াল' করার কথা আমার কখনো মাথায় আসেনি । বালজাকের মতো আমি আমার ভোকাবুলারি আলাদা করে নিয়েছি কবিতা ও গদ্যে । তোমার প্রতি যতই আমার স্নেহ থাক মলয়, কিন্তু তোমার কবিতা সম্বন্ধে এখনো কোনোরকম উৎসাহ আমার মনে জাগেনি । প্রতীক্ষা করে আছি অবশ্য ।
অনেকের ধারণা যে পরবর্তী তরুণ জেনারেশানের কবিদের হাতে না রাখলে সাহিত্যে খ্যাতি টেকে না । সে জন্যে আমার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে কেউ-কেউ একসময় তোমাদের মুরুব্বি হয়েছিল । আমি ওসব গ্রাহ্য করি না । নিজের পায়ে আমার যথেষ্ট জোর আছে, এমনকী একা দাঁড়াবার । আমার কথা হল : যে-যে বন্ধু আছ কাছে এসো, যে ভালো কবিতা লেখো কাছে এসো --- যে-যে বন্ধু নও , বাজে কবিতা লেখো, দূর হয়ে যাও কাছ থেকে । বয়সের ব্যবধান তোলা আমার কাছে অত্যন্ত ভালগার লাগে ।
চালিয়ে যাও ওসব আন্দোলন কিংবা জেনারেশানের ভণ্ডামি । আমার ওসব পড়তে কিংবা দেখতে মজাই লাগে । দূর থেকে । সাহিত্যের ওপর মৌরসি পাট্টা বসাতে এক-এক দলের অত লোভ কী করে আসে , কী জানি । তবে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো । আমাকে দেখেছ নিশ্চয় শান্তশিষ্ট, ভালো মানুষ । আমি তাই-ই, যদিও গায়ে পদ্মাপাড়ের রক্ত আছে । সুতরাং, তোমাদের উচিত আমাকে দূরে-দূরে রাখা , বেশি খোঁচাখুঁচি না করা । নইলে হঠাৎ উত্তেজিত হলে কী করব বলা যায় না । জীবনে ওরকম উত্তেজিত হয়েছি পৌনে এক বার । গত বছর । দুএকজন বন্ধুবান্ধব ও-দলে আছে বলে নিতান্ত স্নেহবশতই তোমাদের হাংরি জেনারেশান গোড়ার দিকে ভেঙে দিইনি । এখনও সে ক্ষমতা রাখি , জেনে রেখো । তবে এখনও ইচ্ছে নেই ও-খেলাঘর ভাঙার ।
আমার এক বন্ধু জানিয়েছে যে তোমরা নাকি আমার কোনো কোনো চিঠির অংশ-বিশেষ ছাপিয়েছ । পত্রসাহিত্য-ফাহিত্য করার জন্য আমি চিঠি লিখি না । আমার চিঠি নেহাত কেজো কথা । অবশ্য লুকোবারও কিছু নেই । কিন্তু আগে-পরের কথা বাদ দিয়ে, ডটডট মেরে, চালাকির জন্য আমার কোনো চিঠি যদি কেউ ছাপিয়ে থাকে --- তবে আড়াই মাস পরে ফিরে তার কান ধরে দুই থাপ্পড় লাগাব বলে দিও ।
আশা করি শারীরিক ভালো আছ । আমার ভালোবাসা নিও ।
সুনীলদা
( The facsimile of the letter was first published in 1987 in the book HUNGRY, SHRUTI and SHASTROBIRODHI ANDOLON by Dr Uttam Das. Publisher : Mahadiganto Prokashani, Padmapukur Mor, Kolkata 700 144. The letter has been reprinted thereafter in various books and periodicals and used by researchers doing M Phil and PhD )
মলয়,
তুমি কলকাতায় কি সব কাণ্ডের বড়াই করে চিঠি লিখেছ জানি না । কী কাণ্ড করছ ? আমার বন্ধু-বান্ধবদের কেউ-কেউ ভাসা-ভাসা লিখেছে বটে কফিহাউসে কী সব গণ্ডোগোলের কথা ।
কিছু লেখার বদলে আন্দোলন ও হাঙ্গামা করার দিকেই তোমার লক্ষ্য বেশি । রাত্রে তোমার ঘুম হয় তো ? এসব কিছু না --- আমার ওতে কোনো মাথাব্যথা নেই । যত খুশি আন্দোলন করে যেতে পারো --- বাংলা কবিতার ওতে কিছু আসে যায় না । মনে হয় খুব একটা শর্টকাট খ্যাতি পাবার লোভ তোমার । পেতেও পারো, বলা যায় না । আমি এসব আন্দোলন কখনো করিনি ; নিজের হৃৎস্পন্দন নিয়ে আমি এতই ব্যস্ত ।
তবে একথা ঠিক, কলকাতা শহরটা আমার । ফিরে গিয়ে আমি ওখানে রাজত্ব করব । তোমরা তার এক 'চুলও' বদলাতে পারবে না । আমার বন্ধুবান্ধবরা আনেকেই সম্রাট । তোমাকে ভয় করতুম, যদি তোমার মধ্যে এখন পর্যন্ত একটুও জেল্লা দেখতে পেতুম । আমার চেয়ে কম বয়সিদের মধ্যে একমাত্র তন্ময় দত্ত এসেছিল বাংলা কবিতায় তলোয়ার হাতে, আমার চেয়ে অন্তত ছ'বছরের ছোটো---- কিন্তু জীবনানন্দের পর অত শক্তিশালী কবি এদেশে আর কেউ আসেনি । প্রচণ্ড অভিমান করে ও চলে গেছে । সেজন্যে এখনও আমি অপরের হয়ে অনুতাপ করি । আমি নিজে তো এখনও কিছুই লিখিনি , লেখার তোড়জোড় করছি মাত্র ; কিন্তু তোমার মতো কবিতাকে 'কমার্শিয়াল' করার কথা আমার কখনো মাথায় আসেনি । বালজাকের মতো আমি আমার ভোকাবুলারি আলাদা করে নিয়েছি কবিতা ও গদ্যে । তোমার প্রতি যতই আমার স্নেহ থাক মলয়, কিন্তু তোমার কবিতা সম্বন্ধে এখনো কোনোরকম উৎসাহ আমার মনে জাগেনি । প্রতীক্ষা করে আছি অবশ্য ।
অনেকের ধারণা যে পরবর্তী তরুণ জেনারেশানের কবিদের হাতে না রাখলে সাহিত্যে খ্যাতি টেকে না । সে জন্যে আমার বন্ধুবান্ধবদের মধ্যে কেউ-কেউ একসময় তোমাদের মুরুব্বি হয়েছিল । আমি ওসব গ্রাহ্য করি না । নিজের পায়ে আমার যথেষ্ট জোর আছে, এমনকী একা দাঁড়াবার । আমার কথা হল : যে-যে বন্ধু আছ কাছে এসো, যে ভালো কবিতা লেখো কাছে এসো --- যে-যে বন্ধু নও , বাজে কবিতা লেখো, দূর হয়ে যাও কাছ থেকে । বয়সের ব্যবধান তোলা আমার কাছে অত্যন্ত ভালগার লাগে ।
চালিয়ে যাও ওসব আন্দোলন কিংবা জেনারেশানের ভণ্ডামি । আমার ওসব পড়তে কিংবা দেখতে মজাই লাগে । দূর থেকে । সাহিত্যের ওপর মৌরসি পাট্টা বসাতে এক-এক দলের অত লোভ কী করে আসে , কী জানি । তবে একটা কথা জানিয়ে রাখা ভালো । আমাকে দেখেছ নিশ্চয় শান্তশিষ্ট, ভালো মানুষ । আমি তাই-ই, যদিও গায়ে পদ্মাপাড়ের রক্ত আছে । সুতরাং, তোমাদের উচিত আমাকে দূরে-দূরে রাখা , বেশি খোঁচাখুঁচি না করা । নইলে হঠাৎ উত্তেজিত হলে কী করব বলা যায় না । জীবনে ওরকম উত্তেজিত হয়েছি পৌনে এক বার । গত বছর । দুএকজন বন্ধুবান্ধব ও-দলে আছে বলে নিতান্ত স্নেহবশতই তোমাদের হাংরি জেনারেশান গোড়ার দিকে ভেঙে দিইনি । এখনও সে ক্ষমতা রাখি , জেনে রেখো । তবে এখনও ইচ্ছে নেই ও-খেলাঘর ভাঙার ।
আমার এক বন্ধু জানিয়েছে যে তোমরা নাকি আমার কোনো কোনো চিঠির অংশ-বিশেষ ছাপিয়েছ । পত্রসাহিত্য-ফাহিত্য করার জন্য আমি চিঠি লিখি না । আমার চিঠি নেহাত কেজো কথা । অবশ্য লুকোবারও কিছু নেই । কিন্তু আগে-পরের কথা বাদ দিয়ে, ডটডট মেরে, চালাকির জন্য আমার কোনো চিঠি যদি কেউ ছাপিয়ে থাকে --- তবে আড়াই মাস পরে ফিরে তার কান ধরে দুই থাপ্পড় লাগাব বলে দিও ।
আশা করি শারীরিক ভালো আছ । আমার ভালোবাসা নিও ।
সুনীলদা
( The facsimile of the letter was first published in 1987 in the book HUNGRY, SHRUTI and SHASTROBIRODHI ANDOLON by Dr Uttam Das. Publisher : Mahadiganto Prokashani, Padmapukur Mor, Kolkata 700 144. The letter has been reprinted thereafter in various books and periodicals and used by researchers doing M Phil and PhD )
লেবেলসমূহ:
Hungryalism,
Malay Roychoudhury,
Sunil Gangopadhyay
রবিবার, ২২ জুলাই, ২০১৮
অজিত রায়কে লেখা মলয় রায়চৌধুরীর চিঠি
লেবেলসমূহ:
অজিত রায়,
মলয় রায়চৌধুরী,
Ajit Ray,
Malay Roychoudhury
অজিত রায়কে লেখা মলয় রায়চৌধুরীর চিঠি
লেবেলসমূহ:
অজিত রায়,
মলয় রায়চৌধুরী,
Ajit Ray,
Malay Roychoudhury
শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮
এসট্যাবলিশমেন্টের আইন মেনে জনৈক বিপ্লবীর লেখার কপিরাইট
কবি শৈলেশ্বর ঘোষের মেয়ে শ্রীমতি জীজা ঘোষ-এর কপিরাইট সম্পর্কিত চিঠি
২৬.১১.২০১৩
প্রতি : প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়
সম্পাদক : চন্দ্রগ্রহণ
৭ বরদাকান্ত রোড
দমদম, কলকাতা ৭০০ ০৩০
মহাশয়,
আমি, শ্রীমতি জীজা ঘোষ, স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষ-এর কন্যা, আপনার সম্পাদিত পত্রিকা 'চন্দ্রগ্রহণ'-এর 'হাংরি আন্দোলন সংখ্যা' ( শারদীয় ১৪২০, নবমবর্ষ, সংখ্যা ১৭, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৩ )-য়, আমার বাবার কয়েকটি কবিতা, প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়াই । ইতিমধ্যে ফোনে আপনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে । তখনও যা জানিয়েছিলাম তা আবারও জানাই -- আপনি আমার বাবার মৃত্যুর পর আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়া বাবার রচনাগুলি আপনার পত্রিকা 'চন্দ্রগ্রহণ'-এ ছেপে ঘোরতর অন্যায় করেছেন ।
আপনাকে আগেও জানিয়েছি, আবারও জানাচ্ছি যে, আমার বাবা স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষের কোনো কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি আর কোনো দিনও কোনো সংকলনে ছাপবেন না বা ছাপাবেন না । আমি আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে জেনেছি যে, কোনো কবি বা লেখকের মৃত্যুর পর ৫০ বছর পর সেটা জাতীয় সম্পত্তি হয় । তখন তাঁর রচনা যে কেউ ছাপতে পারে ।
আমি জানি, এ কাজ আপনি শ্রীমলয় রায়চৌধুরী ও শ্রীসমীর রায়চৌধুরীর দ্বারা নির্দেশিত হয়েই করেছেন । আমার বাবাকে জীবিতথাকাকালীন যাঁরা কুৎসিতভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আক্রমণ করেছেন , তাঁদের সঙ্গে আমার বাবার কোনো সংকলনে কোনো লেখা থাক, এটা আমি বা আমার পরিবারের কেউ চাই না । আমার বাবা স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষ-এর এটাই ইচ্ছা ছিল । স্বাভাবিকভাবেই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আমার স্বর্গীয় বাবার ইচ্ছার সন্মান জানাতে চাই ।
আপনাকে আবারও বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়া আমার বাবার কোনো রচনা -- কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি আর ছাপবেন না বা ছাপাবেন না । এর পরও যদি না শোনেন তবে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করতে বাধ্য হব ।
বিনীত নিবেদন
জীজা ঘোষ
২৬.১১.২০১৩
প্রতি : প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়
সম্পাদক : চন্দ্রগ্রহণ
৭ বরদাকান্ত রোড
দমদম, কলকাতা ৭০০ ০৩০
মহাশয়,
আমি, শ্রীমতি জীজা ঘোষ, স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষ-এর কন্যা, আপনার সম্পাদিত পত্রিকা 'চন্দ্রগ্রহণ'-এর 'হাংরি আন্দোলন সংখ্যা' ( শারদীয় ১৪২০, নবমবর্ষ, সংখ্যা ১৭, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৩ )-য়, আমার বাবার কয়েকটি কবিতা, প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়াই । ইতিমধ্যে ফোনে আপনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে । তখনও যা জানিয়েছিলাম তা আবারও জানাই -- আপনি আমার বাবার মৃত্যুর পর আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়া বাবার রচনাগুলি আপনার পত্রিকা 'চন্দ্রগ্রহণ'-এ ছেপে ঘোরতর অন্যায় করেছেন ।
আপনাকে আগেও জানিয়েছি, আবারও জানাচ্ছি যে, আমার বাবা স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষের কোনো কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি আর কোনো দিনও কোনো সংকলনে ছাপবেন না বা ছাপাবেন না । আমি আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে জেনেছি যে, কোনো কবি বা লেখকের মৃত্যুর পর ৫০ বছর পর সেটা জাতীয় সম্পত্তি হয় । তখন তাঁর রচনা যে কেউ ছাপতে পারে ।
আমি জানি, এ কাজ আপনি শ্রীমলয় রায়চৌধুরী ও শ্রীসমীর রায়চৌধুরীর দ্বারা নির্দেশিত হয়েই করেছেন । আমার বাবাকে জীবিতথাকাকালীন যাঁরা কুৎসিতভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আক্রমণ করেছেন , তাঁদের সঙ্গে আমার বাবার কোনো সংকলনে কোনো লেখা থাক, এটা আমি বা আমার পরিবারের কেউ চাই না । আমার বাবা স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষ-এর এটাই ইচ্ছা ছিল । স্বাভাবিকভাবেই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আমার স্বর্গীয় বাবার ইচ্ছার সন্মান জানাতে চাই ।
আপনাকে আবারও বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়া আমার বাবার কোনো রচনা -- কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি আর ছাপবেন না বা ছাপাবেন না । এর পরও যদি না শোনেন তবে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করতে বাধ্য হব ।
বিনীত নিবেদন
জীজা ঘোষ
রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৮
মলয় রায়চৌধুরীকে বিট আন্দোলনের কবি লরেন্স ফেরলিংঘেট্টির চিঠি
বিট আন্দোলনের কবি লরেন্স ফেরলিংঘেট্টির চিঠি , মলয় রায়চোধুরীকে : হাংরি কিংবদন্তি
সিটি লাইটস, স্যান ফ্রানসিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া
মার্চ ২৬, ১৯৬৬
প্রিয় মলয়,
তোমার মকদ্দমার আইনি রায়ের প্রতিলিপি আমি পেয়েছি, এবং পাঠাবার জন্য ধন্যবাদ । এটা পড়ে বেশ হাস্যকর মনে হল । তোমার কবিতা 'প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার' এর সঙ্গে আমি এই রায় 'সিটি লাইটস জার্নাল'-এর আগামি সংখ্যায় ছাপতে চাই, যা এই গ্রীষ্মে প্রকাশিত হবে , আর তার জন্য যৎসামান্য টাকা এই সঙ্গে পাঠাচ্ছি, কেননা জানি যে তোমার এখন তা অত্যন্ত প্রয়োজন । এই চিঠির একটা কপি আমি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ডকে পাঠাচ্ছি । হয়তো নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর উনি জানেন এবং তা দ্রুত পাঠাতে পারবেন, কেননা আতে সময় বেশ কম, আর তোমার কাছ ধেকে জবাব পেতে সময় লেগে যাবে । আমার মতে কবিতাটি অপূর্ব, আর এটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করার জন্য আমি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ডের ঋণ স্বীকার করব, দারুণ ।
অ্যালেন ( গিন্সবার্গ ) এখন নিউ ইয়র্কে আর ওর নতুন ঠিকানা হল ৪০৮ ইস্ট, ১০ স্ট্রিট ( অ্যাপ্ট ৪সি ) নিউ ইয়র্ক ।
আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই ; ১) কবিতাটি কি প্রথমে বাংলায় রচিত , এবং বাংলা অথবা ইংরেজি কোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ? ২) অনুবাদটি কি তোমার নিজের করা, অথবা অন্য কারোর করা ? ৩) আমি কি টাইপকরা কবিতাটা প্রকাশ করব যেটি তুমি আমায় আগের বছর পাঠিয়েছিলে, নাকি যে সংস্করণটি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ড প্রকাশ করেছেন ? ( দুটিতে সামান্য পার্থক্য দেখছি ) ।
যত তাড়াতাড়ি পারো উত্তর দাও । ছাপা আটকে রেখেছি । এবং গুড লাক, আশা করি তুমি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারছ । ভালোবাসা নিও ।
লরেন্স ফেরলিংঘেট্টি
মার্চ ২৬, ১৯৬৬
প্রিয় মলয়,
তোমার মকদ্দমার আইনি রায়ের প্রতিলিপি আমি পেয়েছি, এবং পাঠাবার জন্য ধন্যবাদ । এটা পড়ে বেশ হাস্যকর মনে হল । তোমার কবিতা 'প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার' এর সঙ্গে আমি এই রায় 'সিটি লাইটস জার্নাল'-এর আগামি সংখ্যায় ছাপতে চাই, যা এই গ্রীষ্মে প্রকাশিত হবে , আর তার জন্য যৎসামান্য টাকা এই সঙ্গে পাঠাচ্ছি, কেননা জানি যে তোমার এখন তা অত্যন্ত প্রয়োজন । এই চিঠির একটা কপি আমি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ডকে পাঠাচ্ছি । হয়তো নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর উনি জানেন এবং তা দ্রুত পাঠাতে পারবেন, কেননা আতে সময় বেশ কম, আর তোমার কাছ ধেকে জবাব পেতে সময় লেগে যাবে । আমার মতে কবিতাটি অপূর্ব, আর এটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করার জন্য আমি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ডের ঋণ স্বীকার করব, দারুণ ।
অ্যালেন ( গিন্সবার্গ ) এখন নিউ ইয়র্কে আর ওর নতুন ঠিকানা হল ৪০৮ ইস্ট, ১০ স্ট্রিট ( অ্যাপ্ট ৪সি ) নিউ ইয়র্ক ।
আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই ; ১) কবিতাটি কি প্রথমে বাংলায় রচিত , এবং বাংলা অথবা ইংরেজি কোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ? ২) অনুবাদটি কি তোমার নিজের করা, অথবা অন্য কারোর করা ? ৩) আমি কি টাইপকরা কবিতাটা প্রকাশ করব যেটি তুমি আমায় আগের বছর পাঠিয়েছিলে, নাকি যে সংস্করণটি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ড প্রকাশ করেছেন ? ( দুটিতে সামান্য পার্থক্য দেখছি ) ।
যত তাড়াতাড়ি পারো উত্তর দাও । ছাপা আটকে রেখেছি । এবং গুড লাক, আশা করি তুমি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারছ । ভালোবাসা নিও ।
লরেন্স ফেরলিংঘেট্টি
লেবেলসমূহ:
বিট সাহিত্য,
Hungry generation,
Hungryalism
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)
























