শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৯

Allen Ginsberg's letter to Sunil Gangopadhyay enquiring about Malay Roychoudhury's arrest in The Hungryalist Trial














হাংরি আন্দোলনের সময়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা সমীর রায়চৌধুরীর চিঠি


বম্বে
২০/৫
সুনীল
         তোর দীর্ঘ চিঠি পেলাম । তোর মানসিক অবস্হা জেনে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছি। শক্তিকে আমরাই এত বড় করে তুলেছি । এর মূল দায়িত্ব তোর, আমার ও মলয়ের । এবং এখনো আমার প্রতিটি বন্ধুকে বড় করেই তুলতে চাই আমি । শক্তিকে লেখার জন্য প্রাথমিক উৎসাহ তুইই দিয়েছিলি । বারেবারে বাহবা দিয়ে “বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবি” একথা তুইই প্রথম তুলেছিস । অর্থাৎ শুধু এই যে আজ শক্তি সেকথা নিজে বলছে । চাইবাসায় থাকতেই তোকে বাদ দিয়ে শিল্পের সিংহাসনে বসার একটা ঘোরতর প্ল্যান উৎপল ও শক্তি অনেকদিন আগেই করেছিল । আমাকেও উপস্হিত থাকতে হয়েছিল এই সব আলোচনায় । পত্রিকা বের করার প্ল্যান তখনই হয়। আন্দোলনের ব্যাপারটাও মলয় বারবার তাগাদা দিতে থাকে । আমি বরাবরই কৃত্তিবাসকে ছাড়তে পারব না জানিয়েছি । নানান সেন্টিমেন্টাল কারণে কৃত্তিবাসকে আমি আমার নিজের পত্রিকা মনে করি । অনেকের মতন ‘সুনীলের কাগজ’ মনে করা সম্ভব নয় । শক্তি ও উৎপল তোকে বাদ দিয়ে ‘জেব্রা’ বার করতে পারবে কিনা মনে হয় না । অন্তত মলয় এটা হতে দেবে না। তাছাড়া সমস্ত নীচতার মধ্যেও সূক্ষ্ম বোধশক্তির দংশন শক্তিও এড়াতে পারবে না । আমাদের মধ্যে একটা ভাঙন গড়ে উঠবে এ আমার বিশ্বাস হয় না । হলে শক্তিরই প্রচণ্ড ক্ষতি হবে । টাকাপয়সার দরকার ওর শিল্পের জন্যও, শীলাও আছে, দার্শনিক ঋণও প্রয়োজন, সমীর ও মলয়কে ও সেইসঙ্গে সুনীলকে বাদ দিলে যে মারাত্মক অবস্হায় ও পড়বে তা ও জানে । আমাকে শক্তি লিখেছে ‘জেব্রা’য় তোর লেখা থাকছে । বেরোতে নাকি মাস দুয়েক দেরি । বরং উৎপলই একটু বেশিমাত্রায় তোর বিরোধী । হয়তো ঈর্ষা, হয়তো অন্য কোনো কারণ । উৎপলকে খুশি রাখতে গিয়ে হয়তো এই সব জটিলতায় শক্তি বাধ্য হচ্ছে । মলয়ের অভিমান এই যে তুই ওকে বিন্দুমাত্র স্নেহ করিস না ; নিতান্ত ছেলেমানুষী । সেবার শীলা পাটনায় ভর্তি হতে গেলে শক্তিকে পাটনায় নিয়ে যাই আমি । সেখানে মলয় ওকে এই আন্দোলন সম্পর্কে Convince করে । ছোটোগল্পে লিখেছে যে গল্পটা, তারই প্লট ও প্ল্যান মলয় শক্তিকে দেয় ( ক্ষুৎকাতর আক্রমণ )। ঠিক হয় যে কলকাতায় গিয়ে পুস্তিকা বের করে ব্যাপারটা আরম্ভ হবে । আমরা সবাই থাকবো। তুইও নিশ্চয়ই । আমাদের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা না করেই শক্তি কলকাতায় ফিরেই ব্যাপারটা আরম্ভ করে দেয় । এদিকে ট্রেনিং-এ চলে আসতে হয় আমাকে । মলয় পাটনায় । কলকাতায় শক্তি একা নানান ভাবে নিজের স্বপক্ষে সিংহাসন গড়ে তোলে ক্রমে । তুই ব্যাপারটায় যোগ না দেওয়ায়, যেটা ভুল-বোঝাবুঝিতে পেছিয়ে গেছে, আজ অবস্হা এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা মলয়ও বলেছে । মলয় এখন যেকোনো রকমে তোকে চায় । ফলে হয়তো তোকে এই ধরণের আক্রমণ চালাচ্ছে । অদ্ভুত সব জটিলতা । ‘ক্ষুধার্ত’ নামে একটা কবিতা সংকলন বার করতে চায় ও । আমাকে লিখেছে তোকে পদ্য পাঠাতে বলতে । ব্যাপারটা নিজেই সম্পাদনা করতে চায়, শক্তির জটিলতা এড়িয়ে । সন্দীপনও বোধহয় একটা গদ্য সংকলন বের করবে । আমি ‘চিহ্ণ’, ‘ছোটগল্প’ ও ‘জেব্রা’র জন্য ছোটগল্প পাঠিয়েছি ওদেরই অনুরোধে ।
         খ্যাতির প্রতি শক্তির প্রলোভন চিরদিনই আছে । ওর পরিবেশ অনুযায়ী হয়তো এটা স্বাভাবিক । আসলে মানুষ না হয়েই শিল্পী হওয়া যায়, এটাই যতো গণ্ডগোলের। ছোটোলোক, নীচ ও চোরও শিল্পী হতে পারে । শিল্পী হওয়ার জন্য বরং এসব ব্যাপার সাহায্যই করে । ফলে বন্ধুত্ব, মনুষ্যত্ব নিয়ে গণ্ডোগোল বাধে ।
         এক মুহূর্তেই হয়তো শক্তির সমস্ত দম্ভ, অহংকার, নীচতা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া যায় বাংলাদেশের কাছে । এর উপযুক্ত নজিরের অভাব নেই আমার কাছে ; কিন্তু শক্তির বিরুদ্ধে বা কারোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় কোনোদিন । আমার কতকগুলো নিজস্ব আদর্শ আছে, তা ভুল বা ঠিক হোক আমি তা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই । প্রতিক্রিয়া হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না ।
         কৃত্তিবাসের জন্যও তোর যে আদর্শ, তাকে ধরে রাখতে হবে তোকে, আশপাশের কারো চিৎকারে বিব্রত হওয়ার কিছুই নেই । কৃত্তিবাস আমরা বের করে যাবোই । আমি ব্যক্তিগতভাবে শিল্পের চেয়ে মানুষকে বেশি ভালোবাসি । শক্তি শিল্পী হিসেবে অনেক বড়ো ও মানুষের চেয়ে শিল্পকে অনেক অনেক বড়ো মনে করে । আমি শিল্পকে পৃথক মনে করতে পারি না ।
         প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গী পৃথক হওয়াই স্বাভাবিক এবং উচিতও । শক্তি বা উৎপলের মতো কবিতা না লিখলে কবি নয়, এসব ছেলেমানুষীতে আমি বিশ্বাস করি না । শক্তির কিছু-কিছু কবিতা যেমন আমাকে উন্মত্ত  বিহ্বল করে, অলোকরঞ্জনের কোনো কোনো কবিতায় আমি তেমনই প্রস্ফূট হয়ে যাই । সেই মুহূর্তে অলোকরঞ্জনকে আমার সমস্ত সত্তার মালিক মনে হয় । কি করে তাকে অস্বীকার করি ? তেমনই হয়তো এমনও কেউ আছেন যাঁর তারাপদর পদ্যে আরোগ্য হয় । এসব শ্রেষ্ঠত্ব স্হির করার আমরা কে ? যাঁরা কবিতা পড়েন তাঁদের ওপরই, সময়ের ওপর, এসব ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের ঢাক ঢোল নিয়ে কাড়াকাড়ি করার কি যে সুখ আমি বুঝি না । এসব চালিয়ে গেলে শক্তি অনেক বড়ো ভুল করবে । যতো বড়ো হতে পারে ও তাকে নিজ হাতে খর্ব করবে । হয়তো অ্যালেনের বিশ্বজোড়া নাম দেখে ও কিছুটা উত্তেজিত হয়েছে । একথা শক্তি কয়েকবার বলেওছে আমাকে ।
         জুনে পনেরো তারিখে এখান থেকে রওনা হয়ে সতেরো তারিখে চাইবাসা পৌঁছোব। তুই আয় না তখন । শক্তিকেও আসতে বলব । একসঙ্গে তিনজন থাকলে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ভেঙে যাবে আপনা থেকেই । চারিদিকে বেড়িয়ে বেড়ানো যাবে । বেলাও বেশ সুস্হ হয়ে উঠেছে।
         চিঠি দিস । হাংরি জেনারেশনের বিরুদ্ধেই না হয় কয়েকটা প্রচণ্ড গদ্য ও পদ্য লেখ । হাংরি জেনারেশনের একটা বিশেষ পুস্তিকায় বের করব আমি ; মলয়ও রাজি হবে । আসলে এই সব আন্দোলনের চেয়ে হৃদয়ের আন্দোলনটাই আগে দরকার ।
         সারা জীবন একাকীত্বের দুর্ভোগ হয়তো এভাবেই আত্মসাৎ করে যেতে হবে আমাকে । তবু এবং হয়তো এই জন্যেই শিল্পের চেয়ে আমি মানুষকে পৃথক করতে পারি না, বড়ো মনে করার বা ছোট মনে করার কারণ খুঁজে পাই না ।
                                                                       সমীর রায়চৌধুরী

সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮

সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়কে লেখা উৎপলকুমার বসুর চিঠি

কলকাতা ও দিল্লির ঝোলানো গাজর খাবার আগে একজন হাংরি আন্দোলনকারীর চিঠি

লণ্ডন
৬ই জানুয়ারি ১৯৭০
প্রিয় সন্দীপন,
          আপনার পাঠানো 'ব্লুজ' পত্রিকায় সুবো আচার্য লিখিত একটি প্রবন্ধ ( নাম : আমার জেনারেশন বিষয়ে ব্যক্তিগত ) পড়েছি এবং এ-বিষয়ে আমার দু'একটি কথা বলার আছে । আপনার পত্রিকায় এই চিঠিটা ছাপবেন যদি স্হানাভাব না হয় এবং যদি ছাপান তবে পুরোটাই ছাপাবেন । ঐ লেখাটির প্রধান গুণ সরলতা বা ইংরেজিতে যাকে বলে ডিরেকটনেস কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার দু'একটি জায়গা বুঝতে অসুবিধে হয়েছে যদিও আমি নিজের মতো একটা মানে করে নিয়েছি ঐ কঠিন অংশগুলির এবং সেই মতোই এই চিঠি লিখছি । আমার বোঝায় ভুল থাকলে আপনারা, বলা বাহুল্য, আমাকে সংশোধন করে দেবেন ।

          কলকাতা শহর কারা চালায় ? অধ্যক্ষরা, মন্ত্রীরা, ব্যবসায়ীরা, চিত্রপরিচালকরা, খবরকাগজওয়ালারা এবং মালিকেরা ও বিদেশী কোম্পানী, জুট মিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, অসংখ্য ছোটোখাটো কলেজ, তাদের অধ্যাপকরা --- এঁরাই কলকাতা শহর চালান । এঁদেরই ব্যবহারের জন্য কলে জল পড়ে, এঁদেরই অর্থবৃদ্ধির জন্য সিনেমা তৈরি হয়, বই লেখা হয়, ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় পাশ করে । এঁদের আক কথায় বলা চলে 'প্রতিষ্ঠান' এবং সেই প্রতিষ্ঠানেরই উপকারে লাগি আমরা । যতোদিন এই প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্ষমতা এবং পয়সা আছে ততদিন সমরেশ বসু আন্তরিক না বিমল কর আন্তরিক এই প্রশ্ন হাস্যকর কেননা উ্যয়েই ঐ প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগছেন । প্রতিষ্ঠান উপকৃত হচ্ছে উভয়কে দিয়েই । সুতরাং প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছামতো অমুক লেখক আধ ইঞ্চি বেশি আন্তরিক হল এই শারদীয় সংখ্যায় --- সামনের বছর অন্য কেউ দেড় ইঞ্চি আন্তরিক হবেন । এই ষড়যন্ত্র কতখানি গভীর এবং ব্যাপক তা পপত্যেক তরুণের লেখকের, আজ, বাংলা দেশে, বোঝার সময় এসেছে এবং এখনি সময়, ঐ প্রতিষ্ঠানকে আমূল উপড়ে ফেলার । তার জন্য দুটি জিনিস দরকার : ( এক ) ভাষা, ( দুই ) বন্দুক । প্রথম ভাষা ব্যাপারটিকে ধরা যাক । আমরা যে বাংলা ভাষায় আজ কথা বলি বা লিখি তা মোটামুটি রবীন্দ্রনাথেরই তৈরী । আমাদের বাক্যগঠন, বানানরীতি, শব্দবিচার সবই ঐ ছাব্বিশখণ্ড থেকে তৈরী হয়েছে । এবং আমি বা আপনি এটা যতো না ভালো জানি, প্রতিষ্ঠান জানে আরো ভালো ভাবে । সুতরাং আমাদের শাসনের জন্য, আমাদের সর্বস্ব গ্রাস করার জন্য ঐ ভাষাই ব্যবহৃত হচ্ছে । ঐ ভাষায় 'আত্মার স্বাধীনতা' ঘোষণা করা যায় না এবং 'আত্মার স্বাধীনতা' ঘোষণা যদি কবিতা হয়, তবে ঐ ভাষায় আজ আর কবিতা লেখাও চলে না । অর্থাৎ 'বাংলা ভাষা'তেই কবিতা লেখা অসম্ভব ।
           কিন্তু বাংলা ভাষা মানে রবীন্দ্রনাথের ভাষা নয় ।
           এবং কবিতা কী ?
           মেদিনীপুরে একবার এক মহিলা কথাচ্ছলে বলেছিলেন :
                চাষা কিবা বোঝে ঘি-এর মর্ম
                আনে কর্পুর লাগায় পোঁদে
          বস্তুত ঐ উক্তির গম্ভীর সারল্যে আমি অভিভূত হয়ে যাই এবং আজ আমার মনে হয় : "রূপনারানের তীরে জেগে উঠিলাম' যদি 'অবিনাশী কবিত্ব হয় তবে ঐ মহিলার উক্তি অধিকতর অবিনশ্বর । ( দ্রষ্টব্য : কে রবীন্দ্রনাথ : সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বী : পৃষ্ঠা ১০২ সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় ) ।

          সুতরাং, আমাদের নির্মমভাবে, এক নতুন ভাষা তৈরী করা দরকার । আমাদের প্রচলিত বাক্যরীতি, শব্দব্যবহার সমস্তই বর্জন করে এক অভিনব গদ্য তৈরি করা দরকার যা দিয়ে নাটক, কবিতা, গল্প সবই লেখা চলে । এর জন্য আমাদের খুঁজে বের করতে হবে গ্রামের শব্দ, লৌকিক বাক্যরীতি, আসামী উড়িয়া বিহারী বাক্যরীতি --- আমাদের যে নতুন ভাষা তৈরী হবে তা হল ঐ বিভিন্ন ভাষা পদ্ধতির সমন্বয় । আমরা ত্রাণ করতে পারি একমাত্র ঐ নতুন ভাষা দিয়ে ।

          আর পারি বন্দুক দিয়ে ।

          কেননা কর্তারা অনেকদিন হল ভুলে গেছেন ভয় কাকে বলে । লাইসেন্স নিয়ে মাথা ঘামাবেন না, কারণ যে কাজে ঐ মারণাস্ত্র ব্যবহার হবে তার জন্য পৃথিবীর কোনো সরকারই কোনোদিন লাইসেন্স দেয়নি । আমরা কাঁধে বন্দুক ঝুলিয়ে, জলের পাইপ বেয়ে, রাত্রির অন্ধকারতে উঠে যেতে চাই প্রিন্সিপালের শোবার ঘরে । ওখানেই আমরা তাঁর ইন্টারভিউ নিতে চাই । ভয় হচ্ছে সেই বস্তু যা শয়তানকে দিয়েও সত্য কথা বলায় । বলা বাহুল্য, প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে প্রথমে আপনাকে নানারকম বোঝানোর চেষ্টা করবে । প্রতিষ্ঠান বলবে : ও হে, না হে, এটা ভালো নয় । আপনার তখন খুবই ইচ্ছে হবে তর্ক করে পরাস্ত করার । ( কেননা আপনার গায়ে তখনও শিক্ষিতের দুর্গন্ধ লেগে আছে ) প্রতিষ্ঠানই আপনাকে বুঝিয়েছে আপনি বুদ্ধিমান যেহেতু আপনি তর্ক করেন )। কিন্তু প্রতিষ্ঠান যখন আপনার হাত থেকে ছোঁ মেরে পয়সাগুলো কেড়ে নেয় তখন সে আপনাকে তর্কের অবকাশ দেয় কি ? ধরে নিলাম, আপনি ঐ ফাঁদে পা দিলেন না, কেননা আপনি তেমন লেখাপড়া করেননি । তখন প্রতিষ্ঠান বলবে : ওহে, অবনীবাবুকে মেরো না, ধরণীবাবুকে মারো । অর্থাৎ আপনার মনে সন্দেহ জাগানোর চেষ্টা করবে । আপনি ষদি ভাবতে শুরু করেন তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার চিন্তা কেটে যাবে কারণ নিজে শুনবেন পুলিশের বাঁশি ডাকছে ।

           তরুণ লেখক ! আপনার উদ্দেশ্য হত্যা । আপনার লক্ষ্য ভায়োলেন্স । আপনি এতদিনে বুঝেছেন কবিতারই অপর নাম কার্তুজ এবং কবির অস্তিত্ব শতকরা একশোভাগ পোলিটিকাল ।

           প্রতিষ্ঠান আপনাকে আরো নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবে । সে ব্যবহার করবে আপনারই অতিপরিচিত শঠ শব্দগুলি । সে বলবে : তবে কি তোমরা সশস্ত্র বিপ্লব চাও ( খবরের কাগজের ভাষা : ঐ প্রতিষ্ঠানেরই মালিক । ) তবে কি তোমরা নিরীহ মা-বাপ ভাই-বোনেদের কথা ভুলে গেলে ( নাটকের ভাষা : ঐ প্রতিষ্ঠানেরই অভিনীত  । ) আপনার তখন চিৎকার করে শুধু একটাই ঘোষণা করার থাকবে : আমি চাই কবিতা । আমরা চাই বন্দুক ।
          আমরা, আজ, চাই কবিতা ও বন্দুক । এর মাঝামাঝি কোনো রফা নয় ।

          ইতি
          উৎপলকুমার বসু