যে চিঠি ইচ্ছে আপনার ম্যাগাজিনে প্রকাশ করতে পারেন। এক কপি এই ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলে হাংরি সংগ্রহালয়ে রাখা হবে। সমীর রায়চৌধুরী, বি-২৪ নর্দার্ন পার্ক, ব্রহ্মপুর, বাঁশদ্রোণী, কলকাতা ৭০০ ০৭০
শুক্রবার, ২২ মার্চ, ২০১৯
Allen Ginsberg's letter to Sunil Gangopadhyay enquiring about Malay Roychoudhury's arrest in The Hungryalist Trial
হাংরি আন্দোলনের সময়ে সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়কে লেখা সমীর রায়চৌধুরীর চিঠি
বম্বে
২০/৫
সুনীল
তোর দীর্ঘ চিঠি পেলাম । তোর মানসিক অবস্হা জেনে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছি। শক্তিকে আমরাই এত বড় করে তুলেছি । এর মূল দায়িত্ব তোর, আমার ও মলয়ের । এবং এখনো আমার প্রতিটি বন্ধুকে বড় করেই তুলতে চাই আমি । শক্তিকে লেখার জন্য প্রাথমিক উৎসাহ তুইই দিয়েছিলি । বারেবারে বাহবা দিয়ে “বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবি” একথা তুইই প্রথম তুলেছিস । অর্থাৎ শুধু এই যে আজ শক্তি সেকথা নিজে বলছে । চাইবাসায় থাকতেই তোকে বাদ দিয়ে শিল্পের সিংহাসনে বসার একটা ঘোরতর প্ল্যান উৎপল ও শক্তি অনেকদিন আগেই করেছিল । আমাকেও উপস্হিত থাকতে হয়েছিল এই সব আলোচনায় । পত্রিকা বের করার প্ল্যান তখনই হয়। আন্দোলনের ব্যাপারটাও মলয় বারবার তাগাদা দিতে থাকে । আমি বরাবরই কৃত্তিবাসকে ছাড়তে পারব না জানিয়েছি । নানান সেন্টিমেন্টাল কারণে কৃত্তিবাসকে আমি আমার নিজের পত্রিকা মনে করি । অনেকের মতন ‘সুনীলের কাগজ’ মনে করা সম্ভব নয় । শক্তি ও উৎপল তোকে বাদ দিয়ে ‘জেব্রা’ বার করতে পারবে কিনা মনে হয় না । অন্তত মলয় এটা হতে দেবে না। তাছাড়া সমস্ত নীচতার মধ্যেও সূক্ষ্ম বোধশক্তির দংশন শক্তিও এড়াতে পারবে না । আমাদের মধ্যে একটা ভাঙন গড়ে উঠবে এ আমার বিশ্বাস হয় না । হলে শক্তিরই প্রচণ্ড ক্ষতি হবে । টাকাপয়সার দরকার ওর শিল্পের জন্যও, শীলাও আছে, দার্শনিক ঋণও প্রয়োজন, সমীর ও মলয়কে ও সেইসঙ্গে সুনীলকে বাদ দিলে যে মারাত্মক অবস্হায় ও পড়বে তা ও জানে । আমাকে শক্তি লিখেছে ‘জেব্রা’য় তোর লেখা থাকছে । বেরোতে নাকি মাস দুয়েক দেরি । বরং উৎপলই একটু বেশিমাত্রায় তোর বিরোধী । হয়তো ঈর্ষা, হয়তো অন্য কোনো কারণ । উৎপলকে খুশি রাখতে গিয়ে হয়তো এই সব জটিলতায় শক্তি বাধ্য হচ্ছে । মলয়ের অভিমান এই যে তুই ওকে বিন্দুমাত্র স্নেহ করিস না ; নিতান্ত ছেলেমানুষী । সেবার শীলা পাটনায় ভর্তি হতে গেলে শক্তিকে পাটনায় নিয়ে যাই আমি । সেখানে মলয় ওকে এই আন্দোলন সম্পর্কে Convince করে । ছোটোগল্পে লিখেছে যে গল্পটা, তারই প্লট ও প্ল্যান মলয় শক্তিকে দেয় ( ক্ষুৎকাতর আক্রমণ )। ঠিক হয় যে কলকাতায় গিয়ে পুস্তিকা বের করে ব্যাপারটা আরম্ভ হবে । আমরা সবাই থাকবো। তুইও নিশ্চয়ই । আমাদের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা না করেই শক্তি কলকাতায় ফিরেই ব্যাপারটা আরম্ভ করে দেয় । এদিকে ট্রেনিং-এ চলে আসতে হয় আমাকে । মলয় পাটনায় । কলকাতায় শক্তি একা নানান ভাবে নিজের স্বপক্ষে সিংহাসন গড়ে তোলে ক্রমে । তুই ব্যাপারটায় যোগ না দেওয়ায়, যেটা ভুল-বোঝাবুঝিতে পেছিয়ে গেছে, আজ অবস্হা এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা মলয়ও বলেছে । মলয় এখন যেকোনো রকমে তোকে চায় । ফলে হয়তো তোকে এই ধরণের আক্রমণ চালাচ্ছে । অদ্ভুত সব জটিলতা । ‘ক্ষুধার্ত’ নামে একটা কবিতা সংকলন বার করতে চায় ও । আমাকে লিখেছে তোকে পদ্য পাঠাতে বলতে । ব্যাপারটা নিজেই সম্পাদনা করতে চায়, শক্তির জটিলতা এড়িয়ে । সন্দীপনও বোধহয় একটা গদ্য সংকলন বের করবে । আমি ‘চিহ্ণ’, ‘ছোটগল্প’ ও ‘জেব্রা’র জন্য ছোটগল্প পাঠিয়েছি ওদেরই অনুরোধে ।
খ্যাতির প্রতি শক্তির প্রলোভন চিরদিনই আছে । ওর পরিবেশ অনুযায়ী হয়তো এটা স্বাভাবিক । আসলে মানুষ না হয়েই শিল্পী হওয়া যায়, এটাই যতো গণ্ডগোলের। ছোটোলোক, নীচ ও চোরও শিল্পী হতে পারে । শিল্পী হওয়ার জন্য বরং এসব ব্যাপার সাহায্যই করে । ফলে বন্ধুত্ব, মনুষ্যত্ব নিয়ে গণ্ডোগোল বাধে ।
এক মুহূর্তেই হয়তো শক্তির সমস্ত দম্ভ, অহংকার, নীচতা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া যায় বাংলাদেশের কাছে । এর উপযুক্ত নজিরের অভাব নেই আমার কাছে ; কিন্তু শক্তির বিরুদ্ধে বা কারোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় কোনোদিন । আমার কতকগুলো নিজস্ব আদর্শ আছে, তা ভুল বা ঠিক হোক আমি তা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই । প্রতিক্রিয়া হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না ।
কৃত্তিবাসের জন্যও তোর যে আদর্শ, তাকে ধরে রাখতে হবে তোকে, আশপাশের কারো চিৎকারে বিব্রত হওয়ার কিছুই নেই । কৃত্তিবাস আমরা বের করে যাবোই । আমি ব্যক্তিগতভাবে শিল্পের চেয়ে মানুষকে বেশি ভালোবাসি । শক্তি শিল্পী হিসেবে অনেক বড়ো ও মানুষের চেয়ে শিল্পকে অনেক অনেক বড়ো মনে করে । আমি শিল্পকে পৃথক মনে করতে পারি না ।
প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গী পৃথক হওয়াই স্বাভাবিক এবং উচিতও । শক্তি বা উৎপলের মতো কবিতা না লিখলে কবি নয়, এসব ছেলেমানুষীতে আমি বিশ্বাস করি না । শক্তির কিছু-কিছু কবিতা যেমন আমাকে উন্মত্ত বিহ্বল করে, অলোকরঞ্জনের কোনো কোনো কবিতায় আমি তেমনই প্রস্ফূট হয়ে যাই । সেই মুহূর্তে অলোকরঞ্জনকে আমার সমস্ত সত্তার মালিক মনে হয় । কি করে তাকে অস্বীকার করি ? তেমনই হয়তো এমনও কেউ আছেন যাঁর তারাপদর পদ্যে আরোগ্য হয় । এসব শ্রেষ্ঠত্ব স্হির করার আমরা কে ? যাঁরা কবিতা পড়েন তাঁদের ওপরই, সময়ের ওপর, এসব ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের ঢাক ঢোল নিয়ে কাড়াকাড়ি করার কি যে সুখ আমি বুঝি না । এসব চালিয়ে গেলে শক্তি অনেক বড়ো ভুল করবে । যতো বড়ো হতে পারে ও তাকে নিজ হাতে খর্ব করবে । হয়তো অ্যালেনের বিশ্বজোড়া নাম দেখে ও কিছুটা উত্তেজিত হয়েছে । একথা শক্তি কয়েকবার বলেওছে আমাকে ।
জুনে পনেরো তারিখে এখান থেকে রওনা হয়ে সতেরো তারিখে চাইবাসা পৌঁছোব। তুই আয় না তখন । শক্তিকেও আসতে বলব । একসঙ্গে তিনজন থাকলে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ভেঙে যাবে আপনা থেকেই । চারিদিকে বেড়িয়ে বেড়ানো যাবে । বেলাও বেশ সুস্হ হয়ে উঠেছে।
চিঠি দিস । হাংরি জেনারেশনের বিরুদ্ধেই না হয় কয়েকটা প্রচণ্ড গদ্য ও পদ্য লেখ । হাংরি জেনারেশনের একটা বিশেষ পুস্তিকায় বের করব আমি ; মলয়ও রাজি হবে । আসলে এই সব আন্দোলনের চেয়ে হৃদয়ের আন্দোলনটাই আগে দরকার ।
সারা জীবন একাকীত্বের দুর্ভোগ হয়তো এভাবেই আত্মসাৎ করে যেতে হবে আমাকে । তবু এবং হয়তো এই জন্যেই শিল্পের চেয়ে আমি মানুষকে পৃথক করতে পারি না, বড়ো মনে করার বা ছোট মনে করার কারণ খুঁজে পাই না ।
সমীর রায়চৌধুরী
২০/৫
সুনীল
তোর দীর্ঘ চিঠি পেলাম । তোর মানসিক অবস্হা জেনে যথেষ্ট কষ্ট পেয়েছি। শক্তিকে আমরাই এত বড় করে তুলেছি । এর মূল দায়িত্ব তোর, আমার ও মলয়ের । এবং এখনো আমার প্রতিটি বন্ধুকে বড় করেই তুলতে চাই আমি । শক্তিকে লেখার জন্য প্রাথমিক উৎসাহ তুইই দিয়েছিলি । বারেবারে বাহবা দিয়ে “বাংলাদেশের শ্রেষ্ঠ কবি” একথা তুইই প্রথম তুলেছিস । অর্থাৎ শুধু এই যে আজ শক্তি সেকথা নিজে বলছে । চাইবাসায় থাকতেই তোকে বাদ দিয়ে শিল্পের সিংহাসনে বসার একটা ঘোরতর প্ল্যান উৎপল ও শক্তি অনেকদিন আগেই করেছিল । আমাকেও উপস্হিত থাকতে হয়েছিল এই সব আলোচনায় । পত্রিকা বের করার প্ল্যান তখনই হয়। আন্দোলনের ব্যাপারটাও মলয় বারবার তাগাদা দিতে থাকে । আমি বরাবরই কৃত্তিবাসকে ছাড়তে পারব না জানিয়েছি । নানান সেন্টিমেন্টাল কারণে কৃত্তিবাসকে আমি আমার নিজের পত্রিকা মনে করি । অনেকের মতন ‘সুনীলের কাগজ’ মনে করা সম্ভব নয় । শক্তি ও উৎপল তোকে বাদ দিয়ে ‘জেব্রা’ বার করতে পারবে কিনা মনে হয় না । অন্তত মলয় এটা হতে দেবে না। তাছাড়া সমস্ত নীচতার মধ্যেও সূক্ষ্ম বোধশক্তির দংশন শক্তিও এড়াতে পারবে না । আমাদের মধ্যে একটা ভাঙন গড়ে উঠবে এ আমার বিশ্বাস হয় না । হলে শক্তিরই প্রচণ্ড ক্ষতি হবে । টাকাপয়সার দরকার ওর শিল্পের জন্যও, শীলাও আছে, দার্শনিক ঋণও প্রয়োজন, সমীর ও মলয়কে ও সেইসঙ্গে সুনীলকে বাদ দিলে যে মারাত্মক অবস্হায় ও পড়বে তা ও জানে । আমাকে শক্তি লিখেছে ‘জেব্রা’য় তোর লেখা থাকছে । বেরোতে নাকি মাস দুয়েক দেরি । বরং উৎপলই একটু বেশিমাত্রায় তোর বিরোধী । হয়তো ঈর্ষা, হয়তো অন্য কোনো কারণ । উৎপলকে খুশি রাখতে গিয়ে হয়তো এই সব জটিলতায় শক্তি বাধ্য হচ্ছে । মলয়ের অভিমান এই যে তুই ওকে বিন্দুমাত্র স্নেহ করিস না ; নিতান্ত ছেলেমানুষী । সেবার শীলা পাটনায় ভর্তি হতে গেলে শক্তিকে পাটনায় নিয়ে যাই আমি । সেখানে মলয় ওকে এই আন্দোলন সম্পর্কে Convince করে । ছোটোগল্পে লিখেছে যে গল্পটা, তারই প্লট ও প্ল্যান মলয় শক্তিকে দেয় ( ক্ষুৎকাতর আক্রমণ )। ঠিক হয় যে কলকাতায় গিয়ে পুস্তিকা বের করে ব্যাপারটা আরম্ভ হবে । আমরা সবাই থাকবো। তুইও নিশ্চয়ই । আমাদের পরবর্তী নির্দেশের অপেক্ষা না করেই শক্তি কলকাতায় ফিরেই ব্যাপারটা আরম্ভ করে দেয় । এদিকে ট্রেনিং-এ চলে আসতে হয় আমাকে । মলয় পাটনায় । কলকাতায় শক্তি একা নানান ভাবে নিজের স্বপক্ষে সিংহাসন গড়ে তোলে ক্রমে । তুই ব্যাপারটায় যোগ না দেওয়ায়, যেটা ভুল-বোঝাবুঝিতে পেছিয়ে গেছে, আজ অবস্হা এখানে এসে দাঁড়িয়েছে। এটা মলয়ও বলেছে । মলয় এখন যেকোনো রকমে তোকে চায় । ফলে হয়তো তোকে এই ধরণের আক্রমণ চালাচ্ছে । অদ্ভুত সব জটিলতা । ‘ক্ষুধার্ত’ নামে একটা কবিতা সংকলন বার করতে চায় ও । আমাকে লিখেছে তোকে পদ্য পাঠাতে বলতে । ব্যাপারটা নিজেই সম্পাদনা করতে চায়, শক্তির জটিলতা এড়িয়ে । সন্দীপনও বোধহয় একটা গদ্য সংকলন বের করবে । আমি ‘চিহ্ণ’, ‘ছোটগল্প’ ও ‘জেব্রা’র জন্য ছোটগল্প পাঠিয়েছি ওদেরই অনুরোধে ।
খ্যাতির প্রতি শক্তির প্রলোভন চিরদিনই আছে । ওর পরিবেশ অনুযায়ী হয়তো এটা স্বাভাবিক । আসলে মানুষ না হয়েই শিল্পী হওয়া যায়, এটাই যতো গণ্ডগোলের। ছোটোলোক, নীচ ও চোরও শিল্পী হতে পারে । শিল্পী হওয়ার জন্য বরং এসব ব্যাপার সাহায্যই করে । ফলে বন্ধুত্ব, মনুষ্যত্ব নিয়ে গণ্ডোগোল বাধে ।
এক মুহূর্তেই হয়তো শক্তির সমস্ত দম্ভ, অহংকার, নীচতা ভেঙে চুরমার করে দেওয়া যায় বাংলাদেশের কাছে । এর উপযুক্ত নজিরের অভাব নেই আমার কাছে ; কিন্তু শক্তির বিরুদ্ধে বা কারোর বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব নয় কোনোদিন । আমার কতকগুলো নিজস্ব আদর্শ আছে, তা ভুল বা ঠিক হোক আমি তা নিয়েই বেঁচে থাকতে চাই । প্রতিক্রিয়া হয়ে বেঁচে থাকতে চাই না ।
কৃত্তিবাসের জন্যও তোর যে আদর্শ, তাকে ধরে রাখতে হবে তোকে, আশপাশের কারো চিৎকারে বিব্রত হওয়ার কিছুই নেই । কৃত্তিবাস আমরা বের করে যাবোই । আমি ব্যক্তিগতভাবে শিল্পের চেয়ে মানুষকে বেশি ভালোবাসি । শক্তি শিল্পী হিসেবে অনেক বড়ো ও মানুষের চেয়ে শিল্পকে অনেক অনেক বড়ো মনে করে । আমি শিল্পকে পৃথক মনে করতে পারি না ।
প্রত্যেকের দৃষ্টিভঙ্গী পৃথক হওয়াই স্বাভাবিক এবং উচিতও । শক্তি বা উৎপলের মতো কবিতা না লিখলে কবি নয়, এসব ছেলেমানুষীতে আমি বিশ্বাস করি না । শক্তির কিছু-কিছু কবিতা যেমন আমাকে উন্মত্ত বিহ্বল করে, অলোকরঞ্জনের কোনো কোনো কবিতায় আমি তেমনই প্রস্ফূট হয়ে যাই । সেই মুহূর্তে অলোকরঞ্জনকে আমার সমস্ত সত্তার মালিক মনে হয় । কি করে তাকে অস্বীকার করি ? তেমনই হয়তো এমনও কেউ আছেন যাঁর তারাপদর পদ্যে আরোগ্য হয় । এসব শ্রেষ্ঠত্ব স্হির করার আমরা কে ? যাঁরা কবিতা পড়েন তাঁদের ওপরই, সময়ের ওপর, এসব ছেড়ে না দিয়ে নিজেদের ঢাক ঢোল নিয়ে কাড়াকাড়ি করার কি যে সুখ আমি বুঝি না । এসব চালিয়ে গেলে শক্তি অনেক বড়ো ভুল করবে । যতো বড়ো হতে পারে ও তাকে নিজ হাতে খর্ব করবে । হয়তো অ্যালেনের বিশ্বজোড়া নাম দেখে ও কিছুটা উত্তেজিত হয়েছে । একথা শক্তি কয়েকবার বলেওছে আমাকে ।
জুনে পনেরো তারিখে এখান থেকে রওনা হয়ে সতেরো তারিখে চাইবাসা পৌঁছোব। তুই আয় না তখন । শক্তিকেও আসতে বলব । একসঙ্গে তিনজন থাকলে অনেক ভুল বোঝাবুঝি ভেঙে যাবে আপনা থেকেই । চারিদিকে বেড়িয়ে বেড়ানো যাবে । বেলাও বেশ সুস্হ হয়ে উঠেছে।
চিঠি দিস । হাংরি জেনারেশনের বিরুদ্ধেই না হয় কয়েকটা প্রচণ্ড গদ্য ও পদ্য লেখ । হাংরি জেনারেশনের একটা বিশেষ পুস্তিকায় বের করব আমি ; মলয়ও রাজি হবে । আসলে এই সব আন্দোলনের চেয়ে হৃদয়ের আন্দোলনটাই আগে দরকার ।
সারা জীবন একাকীত্বের দুর্ভোগ হয়তো এভাবেই আত্মসাৎ করে যেতে হবে আমাকে । তবু এবং হয়তো এই জন্যেই শিল্পের চেয়ে আমি মানুষকে পৃথক করতে পারি না, বড়ো মনে করার বা ছোট মনে করার কারণ খুঁজে পাই না ।
সমীর রায়চৌধুরী
সোমবার, ২০ আগস্ট, ২০১৮
সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়কে লেখা উৎপলকুমার বসুর চিঠি
লণ্ডন
৬ই জানুয়ারি ১৯৭০
প্রিয় সন্দীপন,
আপনার পাঠানো 'ব্লুজ' পত্রিকায় সুবো আচার্য লিখিত একটি প্রবন্ধ ( নাম : আমার জেনারেশন বিষয়ে ব্যক্তিগত ) পড়েছি এবং এ-বিষয়ে আমার দু'একটি কথা বলার আছে । আপনার পত্রিকায় এই চিঠিটা ছাপবেন যদি স্হানাভাব না হয় এবং যদি ছাপান তবে পুরোটাই ছাপাবেন । ঐ লেখাটির প্রধান গুণ সরলতা বা ইংরেজিতে যাকে বলে ডিরেকটনেস কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার দু'একটি জায়গা বুঝতে অসুবিধে হয়েছে যদিও আমি নিজের মতো একটা মানে করে নিয়েছি ঐ কঠিন অংশগুলির এবং সেই মতোই এই চিঠি লিখছি । আমার বোঝায় ভুল থাকলে আপনারা, বলা বাহুল্য, আমাকে সংশোধন করে দেবেন ।
কলকাতা শহর কারা চালায় ? অধ্যক্ষরা, মন্ত্রীরা, ব্যবসায়ীরা, চিত্রপরিচালকরা, খবরকাগজওয়ালারা এবং মালিকেরা ও বিদেশী কোম্পানী, জুট মিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, অসংখ্য ছোটোখাটো কলেজ, তাদের অধ্যাপকরা --- এঁরাই কলকাতা শহর চালান । এঁদেরই ব্যবহারের জন্য কলে জল পড়ে, এঁদেরই অর্থবৃদ্ধির জন্য সিনেমা তৈরি হয়, বই লেখা হয়, ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় পাশ করে । এঁদের আক কথায় বলা চলে 'প্রতিষ্ঠান' এবং সেই প্রতিষ্ঠানেরই উপকারে লাগি আমরা । যতোদিন এই প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্ষমতা এবং পয়সা আছে ততদিন সমরেশ বসু আন্তরিক না বিমল কর আন্তরিক এই প্রশ্ন হাস্যকর কেননা উ্যয়েই ঐ প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগছেন । প্রতিষ্ঠান উপকৃত হচ্ছে উভয়কে দিয়েই । সুতরাং প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছামতো অমুক লেখক আধ ইঞ্চি বেশি আন্তরিক হল এই শারদীয় সংখ্যায় --- সামনের বছর অন্য কেউ দেড় ইঞ্চি আন্তরিক হবেন । এই ষড়যন্ত্র কতখানি গভীর এবং ব্যাপক তা পপত্যেক তরুণের লেখকের, আজ, বাংলা দেশে, বোঝার সময় এসেছে এবং এখনি সময়, ঐ প্রতিষ্ঠানকে আমূল উপড়ে ফেলার । তার জন্য দুটি জিনিস দরকার : ( এক ) ভাষা, ( দুই ) বন্দুক । প্রথম ভাষা ব্যাপারটিকে ধরা যাক । আমরা যে বাংলা ভাষায় আজ কথা বলি বা লিখি তা মোটামুটি রবীন্দ্রনাথেরই তৈরী । আমাদের বাক্যগঠন, বানানরীতি, শব্দবিচার সবই ঐ ছাব্বিশখণ্ড থেকে তৈরী হয়েছে । এবং আমি বা আপনি এটা যতো না ভালো জানি, প্রতিষ্ঠান জানে আরো ভালো ভাবে । সুতরাং আমাদের শাসনের জন্য, আমাদের সর্বস্ব গ্রাস করার জন্য ঐ ভাষাই ব্যবহৃত হচ্ছে । ঐ ভাষায় 'আত্মার স্বাধীনতা' ঘোষণা করা যায় না এবং 'আত্মার স্বাধীনতা' ঘোষণা যদি কবিতা হয়, তবে ঐ ভাষায় আজ আর কবিতা লেখাও চলে না । অর্থাৎ 'বাংলা ভাষা'তেই কবিতা লেখা অসম্ভব ।
কিন্তু বাংলা ভাষা মানে রবীন্দ্রনাথের ভাষা নয় ।
এবং কবিতা কী ?
মেদিনীপুরে একবার এক মহিলা কথাচ্ছলে বলেছিলেন :
চাষা কিবা বোঝে ঘি-এর মর্ম
আনে কর্পুর লাগায় পোঁদে
বস্তুত ঐ উক্তির গম্ভীর সারল্যে আমি অভিভূত হয়ে যাই এবং আজ আমার মনে হয় : "রূপনারানের তীরে জেগে উঠিলাম' যদি 'অবিনাশী কবিত্ব হয় তবে ঐ মহিলার উক্তি অধিকতর অবিনশ্বর । ( দ্রষ্টব্য : কে রবীন্দ্রনাথ : সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বী : পৃষ্ঠা ১০২ সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় ) ।
সুতরাং, আমাদের নির্মমভাবে, এক নতুন ভাষা তৈরী করা দরকার । আমাদের প্রচলিত বাক্যরীতি, শব্দব্যবহার সমস্তই বর্জন করে এক অভিনব গদ্য তৈরি করা দরকার যা দিয়ে নাটক, কবিতা, গল্প সবই লেখা চলে । এর জন্য আমাদের খুঁজে বের করতে হবে গ্রামের শব্দ, লৌকিক বাক্যরীতি, আসামী উড়িয়া বিহারী বাক্যরীতি --- আমাদের যে নতুন ভাষা তৈরী হবে তা হল ঐ বিভিন্ন ভাষা পদ্ধতির সমন্বয় । আমরা ত্রাণ করতে পারি একমাত্র ঐ নতুন ভাষা দিয়ে ।
আর পারি বন্দুক দিয়ে ।
কেননা কর্তারা অনেকদিন হল ভুলে গেছেন ভয় কাকে বলে । লাইসেন্স নিয়ে মাথা ঘামাবেন না, কারণ যে কাজে ঐ মারণাস্ত্র ব্যবহার হবে তার জন্য পৃথিবীর কোনো সরকারই কোনোদিন লাইসেন্স দেয়নি । আমরা কাঁধে বন্দুক ঝুলিয়ে, জলের পাইপ বেয়ে, রাত্রির অন্ধকারতে উঠে যেতে চাই প্রিন্সিপালের শোবার ঘরে । ওখানেই আমরা তাঁর ইন্টারভিউ নিতে চাই । ভয় হচ্ছে সেই বস্তু যা শয়তানকে দিয়েও সত্য কথা বলায় । বলা বাহুল্য, প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে প্রথমে আপনাকে নানারকম বোঝানোর চেষ্টা করবে । প্রতিষ্ঠান বলবে : ও হে, না হে, এটা ভালো নয় । আপনার তখন খুবই ইচ্ছে হবে তর্ক করে পরাস্ত করার । ( কেননা আপনার গায়ে তখনও শিক্ষিতের দুর্গন্ধ লেগে আছে ) প্রতিষ্ঠানই আপনাকে বুঝিয়েছে আপনি বুদ্ধিমান যেহেতু আপনি তর্ক করেন )। কিন্তু প্রতিষ্ঠান যখন আপনার হাত থেকে ছোঁ মেরে পয়সাগুলো কেড়ে নেয় তখন সে আপনাকে তর্কের অবকাশ দেয় কি ? ধরে নিলাম, আপনি ঐ ফাঁদে পা দিলেন না, কেননা আপনি তেমন লেখাপড়া করেননি । তখন প্রতিষ্ঠান বলবে : ওহে, অবনীবাবুকে মেরো না, ধরণীবাবুকে মারো । অর্থাৎ আপনার মনে সন্দেহ জাগানোর চেষ্টা করবে । আপনি ষদি ভাবতে শুরু করেন তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার চিন্তা কেটে যাবে কারণ নিজে শুনবেন পুলিশের বাঁশি ডাকছে ।
তরুণ লেখক ! আপনার উদ্দেশ্য হত্যা । আপনার লক্ষ্য ভায়োলেন্স । আপনি এতদিনে বুঝেছেন কবিতারই অপর নাম কার্তুজ এবং কবির অস্তিত্ব শতকরা একশোভাগ পোলিটিকাল ।
প্রতিষ্ঠান আপনাকে আরো নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবে । সে ব্যবহার করবে আপনারই অতিপরিচিত শঠ শব্দগুলি । সে বলবে : তবে কি তোমরা সশস্ত্র বিপ্লব চাও ( খবরের কাগজের ভাষা : ঐ প্রতিষ্ঠানেরই মালিক । ) তবে কি তোমরা নিরীহ মা-বাপ ভাই-বোনেদের কথা ভুলে গেলে ( নাটকের ভাষা : ঐ প্রতিষ্ঠানেরই অভিনীত । ) আপনার তখন চিৎকার করে শুধু একটাই ঘোষণা করার থাকবে : আমি চাই কবিতা । আমরা চাই বন্দুক ।
আমরা, আজ, চাই কবিতা ও বন্দুক । এর মাঝামাঝি কোনো রফা নয় ।
ইতি
উৎপলকুমার বসু
৬ই জানুয়ারি ১৯৭০
প্রিয় সন্দীপন,
আপনার পাঠানো 'ব্লুজ' পত্রিকায় সুবো আচার্য লিখিত একটি প্রবন্ধ ( নাম : আমার জেনারেশন বিষয়ে ব্যক্তিগত ) পড়েছি এবং এ-বিষয়ে আমার দু'একটি কথা বলার আছে । আপনার পত্রিকায় এই চিঠিটা ছাপবেন যদি স্হানাভাব না হয় এবং যদি ছাপান তবে পুরোটাই ছাপাবেন । ঐ লেখাটির প্রধান গুণ সরলতা বা ইংরেজিতে যাকে বলে ডিরেকটনেস কিন্তু তা সত্ত্বেও আমার দু'একটি জায়গা বুঝতে অসুবিধে হয়েছে যদিও আমি নিজের মতো একটা মানে করে নিয়েছি ঐ কঠিন অংশগুলির এবং সেই মতোই এই চিঠি লিখছি । আমার বোঝায় ভুল থাকলে আপনারা, বলা বাহুল্য, আমাকে সংশোধন করে দেবেন ।
কলকাতা শহর কারা চালায় ? অধ্যক্ষরা, মন্ত্রীরা, ব্যবসায়ীরা, চিত্রপরিচালকরা, খবরকাগজওয়ালারা এবং মালিকেরা ও বিদেশী কোম্পানী, জুট মিল এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলি, অসংখ্য ছোটোখাটো কলেজ, তাদের অধ্যাপকরা --- এঁরাই কলকাতা শহর চালান । এঁদেরই ব্যবহারের জন্য কলে জল পড়ে, এঁদেরই অর্থবৃদ্ধির জন্য সিনেমা তৈরি হয়, বই লেখা হয়, ছেলেমেয়েরা পরীক্ষায় পাশ করে । এঁদের আক কথায় বলা চলে 'প্রতিষ্ঠান' এবং সেই প্রতিষ্ঠানেরই উপকারে লাগি আমরা । যতোদিন এই প্রতিষ্ঠানের হাতে ক্ষমতা এবং পয়সা আছে ততদিন সমরেশ বসু আন্তরিক না বিমল কর আন্তরিক এই প্রশ্ন হাস্যকর কেননা উ্যয়েই ঐ প্রতিষ্ঠানের কাজে লাগছেন । প্রতিষ্ঠান উপকৃত হচ্ছে উভয়কে দিয়েই । সুতরাং প্রতিষ্ঠানের ইচ্ছামতো অমুক লেখক আধ ইঞ্চি বেশি আন্তরিক হল এই শারদীয় সংখ্যায় --- সামনের বছর অন্য কেউ দেড় ইঞ্চি আন্তরিক হবেন । এই ষড়যন্ত্র কতখানি গভীর এবং ব্যাপক তা পপত্যেক তরুণের লেখকের, আজ, বাংলা দেশে, বোঝার সময় এসেছে এবং এখনি সময়, ঐ প্রতিষ্ঠানকে আমূল উপড়ে ফেলার । তার জন্য দুটি জিনিস দরকার : ( এক ) ভাষা, ( দুই ) বন্দুক । প্রথম ভাষা ব্যাপারটিকে ধরা যাক । আমরা যে বাংলা ভাষায় আজ কথা বলি বা লিখি তা মোটামুটি রবীন্দ্রনাথেরই তৈরী । আমাদের বাক্যগঠন, বানানরীতি, শব্দবিচার সবই ঐ ছাব্বিশখণ্ড থেকে তৈরী হয়েছে । এবং আমি বা আপনি এটা যতো না ভালো জানি, প্রতিষ্ঠান জানে আরো ভালো ভাবে । সুতরাং আমাদের শাসনের জন্য, আমাদের সর্বস্ব গ্রাস করার জন্য ঐ ভাষাই ব্যবহৃত হচ্ছে । ঐ ভাষায় 'আত্মার স্বাধীনতা' ঘোষণা করা যায় না এবং 'আত্মার স্বাধীনতা' ঘোষণা যদি কবিতা হয়, তবে ঐ ভাষায় আজ আর কবিতা লেখাও চলে না । অর্থাৎ 'বাংলা ভাষা'তেই কবিতা লেখা অসম্ভব ।
কিন্তু বাংলা ভাষা মানে রবীন্দ্রনাথের ভাষা নয় ।
এবং কবিতা কী ?
মেদিনীপুরে একবার এক মহিলা কথাচ্ছলে বলেছিলেন :
চাষা কিবা বোঝে ঘি-এর মর্ম
আনে কর্পুর লাগায় পোঁদে
বস্তুত ঐ উক্তির গম্ভীর সারল্যে আমি অভিভূত হয়ে যাই এবং আজ আমার মনে হয় : "রূপনারানের তীরে জেগে উঠিলাম' যদি 'অবিনাশী কবিত্ব হয় তবে ঐ মহিলার উক্তি অধিকতর অবিনশ্বর । ( দ্রষ্টব্য : কে রবীন্দ্রনাথ : সমবেত প্রতিদ্বন্দ্বী : পৃষ্ঠা ১০২ সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় ) ।
সুতরাং, আমাদের নির্মমভাবে, এক নতুন ভাষা তৈরী করা দরকার । আমাদের প্রচলিত বাক্যরীতি, শব্দব্যবহার সমস্তই বর্জন করে এক অভিনব গদ্য তৈরি করা দরকার যা দিয়ে নাটক, কবিতা, গল্প সবই লেখা চলে । এর জন্য আমাদের খুঁজে বের করতে হবে গ্রামের শব্দ, লৌকিক বাক্যরীতি, আসামী উড়িয়া বিহারী বাক্যরীতি --- আমাদের যে নতুন ভাষা তৈরী হবে তা হল ঐ বিভিন্ন ভাষা পদ্ধতির সমন্বয় । আমরা ত্রাণ করতে পারি একমাত্র ঐ নতুন ভাষা দিয়ে ।
আর পারি বন্দুক দিয়ে ।
কেননা কর্তারা অনেকদিন হল ভুলে গেছেন ভয় কাকে বলে । লাইসেন্স নিয়ে মাথা ঘামাবেন না, কারণ যে কাজে ঐ মারণাস্ত্র ব্যবহার হবে তার জন্য পৃথিবীর কোনো সরকারই কোনোদিন লাইসেন্স দেয়নি । আমরা কাঁধে বন্দুক ঝুলিয়ে, জলের পাইপ বেয়ে, রাত্রির অন্ধকারতে উঠে যেতে চাই প্রিন্সিপালের শোবার ঘরে । ওখানেই আমরা তাঁর ইন্টারভিউ নিতে চাই । ভয় হচ্ছে সেই বস্তু যা শয়তানকে দিয়েও সত্য কথা বলায় । বলা বাহুল্য, প্রতিষ্ঠান এগিয়ে এসে প্রথমে আপনাকে নানারকম বোঝানোর চেষ্টা করবে । প্রতিষ্ঠান বলবে : ও হে, না হে, এটা ভালো নয় । আপনার তখন খুবই ইচ্ছে হবে তর্ক করে পরাস্ত করার । ( কেননা আপনার গায়ে তখনও শিক্ষিতের দুর্গন্ধ লেগে আছে ) প্রতিষ্ঠানই আপনাকে বুঝিয়েছে আপনি বুদ্ধিমান যেহেতু আপনি তর্ক করেন )। কিন্তু প্রতিষ্ঠান যখন আপনার হাত থেকে ছোঁ মেরে পয়সাগুলো কেড়ে নেয় তখন সে আপনাকে তর্কের অবকাশ দেয় কি ? ধরে নিলাম, আপনি ঐ ফাঁদে পা দিলেন না, কেননা আপনি তেমন লেখাপড়া করেননি । তখন প্রতিষ্ঠান বলবে : ওহে, অবনীবাবুকে মেরো না, ধরণীবাবুকে মারো । অর্থাৎ আপনার মনে সন্দেহ জাগানোর চেষ্টা করবে । আপনি ষদি ভাবতে শুরু করেন তবে কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার চিন্তা কেটে যাবে কারণ নিজে শুনবেন পুলিশের বাঁশি ডাকছে ।
তরুণ লেখক ! আপনার উদ্দেশ্য হত্যা । আপনার লক্ষ্য ভায়োলেন্স । আপনি এতদিনে বুঝেছেন কবিতারই অপর নাম কার্তুজ এবং কবির অস্তিত্ব শতকরা একশোভাগ পোলিটিকাল ।
প্রতিষ্ঠান আপনাকে আরো নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করবে । সে ব্যবহার করবে আপনারই অতিপরিচিত শঠ শব্দগুলি । সে বলবে : তবে কি তোমরা সশস্ত্র বিপ্লব চাও ( খবরের কাগজের ভাষা : ঐ প্রতিষ্ঠানেরই মালিক । ) তবে কি তোমরা নিরীহ মা-বাপ ভাই-বোনেদের কথা ভুলে গেলে ( নাটকের ভাষা : ঐ প্রতিষ্ঠানেরই অভিনীত । ) আপনার তখন চিৎকার করে শুধু একটাই ঘোষণা করার থাকবে : আমি চাই কবিতা । আমরা চাই বন্দুক ।
আমরা, আজ, চাই কবিতা ও বন্দুক । এর মাঝামাঝি কোনো রফা নয় ।
ইতি
উৎপলকুমার বসু
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)