যে চিঠি ইচ্ছে আপনার ম্যাগাজিনে প্রকাশ করতে পারেন। এক কপি এই ঠিকানায় পাঠিয়ে দিলে হাংরি সংগ্রহালয়ে রাখা হবে। সমীর রায়চৌধুরী, বি-২৪ নর্দার্ন পার্ক, ব্রহ্মপুর, বাঁশদ্রোণী, কলকাতা ৭০০ ০৭০
রবিবার, ২২ জুলাই, ২০১৮
অজিত রায়কে লেখা মলয় রায়চৌধুরীর চিঠি
লেবেলসমূহ:
অজিত রায়,
মলয় রায়চৌধুরী,
Ajit Ray,
Malay Roychoudhury
শুক্রবার, ২৯ জুন, ২০১৮
এসট্যাবলিশমেন্টের আইন মেনে জনৈক বিপ্লবীর লেখার কপিরাইট
কবি শৈলেশ্বর ঘোষের মেয়ে শ্রীমতি জীজা ঘোষ-এর কপিরাইট সম্পর্কিত চিঠি
২৬.১১.২০১৩
প্রতি : প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়
সম্পাদক : চন্দ্রগ্রহণ
৭ বরদাকান্ত রোড
দমদম, কলকাতা ৭০০ ০৩০
মহাশয়,
আমি, শ্রীমতি জীজা ঘোষ, স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষ-এর কন্যা, আপনার সম্পাদিত পত্রিকা 'চন্দ্রগ্রহণ'-এর 'হাংরি আন্দোলন সংখ্যা' ( শারদীয় ১৪২০, নবমবর্ষ, সংখ্যা ১৭, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৩ )-য়, আমার বাবার কয়েকটি কবিতা, প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়াই । ইতিমধ্যে ফোনে আপনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে । তখনও যা জানিয়েছিলাম তা আবারও জানাই -- আপনি আমার বাবার মৃত্যুর পর আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়া বাবার রচনাগুলি আপনার পত্রিকা 'চন্দ্রগ্রহণ'-এ ছেপে ঘোরতর অন্যায় করেছেন ।
আপনাকে আগেও জানিয়েছি, আবারও জানাচ্ছি যে, আমার বাবা স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষের কোনো কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি আর কোনো দিনও কোনো সংকলনে ছাপবেন না বা ছাপাবেন না । আমি আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে জেনেছি যে, কোনো কবি বা লেখকের মৃত্যুর পর ৫০ বছর পর সেটা জাতীয় সম্পত্তি হয় । তখন তাঁর রচনা যে কেউ ছাপতে পারে ।
আমি জানি, এ কাজ আপনি শ্রীমলয় রায়চৌধুরী ও শ্রীসমীর রায়চৌধুরীর দ্বারা নির্দেশিত হয়েই করেছেন । আমার বাবাকে জীবিতথাকাকালীন যাঁরা কুৎসিতভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আক্রমণ করেছেন , তাঁদের সঙ্গে আমার বাবার কোনো সংকলনে কোনো লেখা থাক, এটা আমি বা আমার পরিবারের কেউ চাই না । আমার বাবা স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষ-এর এটাই ইচ্ছা ছিল । স্বাভাবিকভাবেই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আমার স্বর্গীয় বাবার ইচ্ছার সন্মান জানাতে চাই ।
আপনাকে আবারও বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়া আমার বাবার কোনো রচনা -- কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি আর ছাপবেন না বা ছাপাবেন না । এর পরও যদি না শোনেন তবে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করতে বাধ্য হব ।
বিনীত নিবেদন
জীজা ঘোষ
২৬.১১.২০১৩
প্রতি : প্রণবকুমার চট্টোপাধ্যায়
সম্পাদক : চন্দ্রগ্রহণ
৭ বরদাকান্ত রোড
দমদম, কলকাতা ৭০০ ০৩০
মহাশয়,
আমি, শ্রীমতি জীজা ঘোষ, স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষ-এর কন্যা, আপনার সম্পাদিত পত্রিকা 'চন্দ্রগ্রহণ'-এর 'হাংরি আন্দোলন সংখ্যা' ( শারদীয় ১৪২০, নবমবর্ষ, সংখ্যা ১৭, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর ২০১৩ )-য়, আমার বাবার কয়েকটি কবিতা, প্রবন্ধ ছাপা হয়েছে আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়াই । ইতিমধ্যে ফোনে আপনার সঙ্গে আমার কথা হয়েছে । তখনও যা জানিয়েছিলাম তা আবারও জানাই -- আপনি আমার বাবার মৃত্যুর পর আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়া বাবার রচনাগুলি আপনার পত্রিকা 'চন্দ্রগ্রহণ'-এ ছেপে ঘোরতর অন্যায় করেছেন ।
আপনাকে আগেও জানিয়েছি, আবারও জানাচ্ছি যে, আমার বাবা স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষের কোনো কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি আর কোনো দিনও কোনো সংকলনে ছাপবেন না বা ছাপাবেন না । আমি আমাদের আইনজীবীর সঙ্গে পরামর্শ করে জেনেছি যে, কোনো কবি বা লেখকের মৃত্যুর পর ৫০ বছর পর সেটা জাতীয় সম্পত্তি হয় । তখন তাঁর রচনা যে কেউ ছাপতে পারে ।
আমি জানি, এ কাজ আপনি শ্রীমলয় রায়চৌধুরী ও শ্রীসমীর রায়চৌধুরীর দ্বারা নির্দেশিত হয়েই করেছেন । আমার বাবাকে জীবিতথাকাকালীন যাঁরা কুৎসিতভাবে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পত্র-পত্রিকায় আক্রমণ করেছেন , তাঁদের সঙ্গে আমার বাবার কোনো সংকলনে কোনো লেখা থাক, এটা আমি বা আমার পরিবারের কেউ চাই না । আমার বাবা স্বর্গীয় শ্রীশৈলেশ্বর ঘোষ-এর এটাই ইচ্ছা ছিল । স্বাভাবিকভাবেই আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আমার স্বর্গীয় বাবার ইচ্ছার সন্মান জানাতে চাই ।
আপনাকে আবারও বিনীত অনুরোধ জানাচ্ছি যে আমার বা আমাদের পরিবারের অনুমতি ছাড়া আমার বাবার কোনো রচনা -- কবিতা, প্রবন্ধ ইত্যাদি আর ছাপবেন না বা ছাপাবেন না । এর পরও যদি না শোনেন তবে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা আপনার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্হা গ্রহণ করতে বাধ্য হব ।
বিনীত নিবেদন
জীজা ঘোষ
রবিবার, ৮ এপ্রিল, ২০১৮
মলয় রায়চৌধুরীকে বিট আন্দোলনের কবি লরেন্স ফেরলিংঘেট্টির চিঠি
বিট আন্দোলনের কবি লরেন্স ফেরলিংঘেট্টির চিঠি , মলয় রায়চোধুরীকে : হাংরি কিংবদন্তি
সিটি লাইটস, স্যান ফ্রানসিসকো, ক্যালিফোর্নিয়া
মার্চ ২৬, ১৯৬৬
প্রিয় মলয়,
তোমার মকদ্দমার আইনি রায়ের প্রতিলিপি আমি পেয়েছি, এবং পাঠাবার জন্য ধন্যবাদ । এটা পড়ে বেশ হাস্যকর মনে হল । তোমার কবিতা 'প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার' এর সঙ্গে আমি এই রায় 'সিটি লাইটস জার্নাল'-এর আগামি সংখ্যায় ছাপতে চাই, যা এই গ্রীষ্মে প্রকাশিত হবে , আর তার জন্য যৎসামান্য টাকা এই সঙ্গে পাঠাচ্ছি, কেননা জানি যে তোমার এখন তা অত্যন্ত প্রয়োজন । এই চিঠির একটা কপি আমি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ডকে পাঠাচ্ছি । হয়তো নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর উনি জানেন এবং তা দ্রুত পাঠাতে পারবেন, কেননা আতে সময় বেশ কম, আর তোমার কাছ ধেকে জবাব পেতে সময় লেগে যাবে । আমার মতে কবিতাটি অপূর্ব, আর এটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করার জন্য আমি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ডের ঋণ স্বীকার করব, দারুণ ।
অ্যালেন ( গিন্সবার্গ ) এখন নিউ ইয়র্কে আর ওর নতুন ঠিকানা হল ৪০৮ ইস্ট, ১০ স্ট্রিট ( অ্যাপ্ট ৪সি ) নিউ ইয়র্ক ।
আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই ; ১) কবিতাটি কি প্রথমে বাংলায় রচিত , এবং বাংলা অথবা ইংরেজি কোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ? ২) অনুবাদটি কি তোমার নিজের করা, অথবা অন্য কারোর করা ? ৩) আমি কি টাইপকরা কবিতাটা প্রকাশ করব যেটি তুমি আমায় আগের বছর পাঠিয়েছিলে, নাকি যে সংস্করণটি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ড প্রকাশ করেছেন ? ( দুটিতে সামান্য পার্থক্য দেখছি ) ।
যত তাড়াতাড়ি পারো উত্তর দাও । ছাপা আটকে রেখেছি । এবং গুড লাক, আশা করি তুমি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারছ । ভালোবাসা নিও ।
লরেন্স ফেরলিংঘেট্টি
মার্চ ২৬, ১৯৬৬
প্রিয় মলয়,
তোমার মকদ্দমার আইনি রায়ের প্রতিলিপি আমি পেয়েছি, এবং পাঠাবার জন্য ধন্যবাদ । এটা পড়ে বেশ হাস্যকর মনে হল । তোমার কবিতা 'প্রচণ্ড বৈদ্যুতিক ছুতার' এর সঙ্গে আমি এই রায় 'সিটি লাইটস জার্নাল'-এর আগামি সংখ্যায় ছাপতে চাই, যা এই গ্রীষ্মে প্রকাশিত হবে , আর তার জন্য যৎসামান্য টাকা এই সঙ্গে পাঠাচ্ছি, কেননা জানি যে তোমার এখন তা অত্যন্ত প্রয়োজন । এই চিঠির একটা কপি আমি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ডকে পাঠাচ্ছি । হয়তো নিচের প্রশ্নগুলোর উত্তর উনি জানেন এবং তা দ্রুত পাঠাতে পারবেন, কেননা আতে সময় বেশ কম, আর তোমার কাছ ধেকে জবাব পেতে সময় লেগে যাবে । আমার মতে কবিতাটি অপূর্ব, আর এটি সর্বপ্রথম প্রকাশ করার জন্য আমি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ডের ঋণ স্বীকার করব, দারুণ ।
অ্যালেন ( গিন্সবার্গ ) এখন নিউ ইয়র্কে আর ওর নতুন ঠিকানা হল ৪০৮ ইস্ট, ১০ স্ট্রিট ( অ্যাপ্ট ৪সি ) নিউ ইয়র্ক ।
আমি এই প্রশ্নগুলোর উত্তর চাই ; ১) কবিতাটি কি প্রথমে বাংলায় রচিত , এবং বাংলা অথবা ইংরেজি কোনটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে আর তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে ? ২) অনুবাদটি কি তোমার নিজের করা, অথবা অন্য কারোর করা ? ৩) আমি কি টাইপকরা কবিতাটা প্রকাশ করব যেটি তুমি আমায় আগের বছর পাঠিয়েছিলে, নাকি যে সংস্করণটি হাওয়ার্ড ম্যাককর্ড প্রকাশ করেছেন ? ( দুটিতে সামান্য পার্থক্য দেখছি ) ।
যত তাড়াতাড়ি পারো উত্তর দাও । ছাপা আটকে রেখেছি । এবং গুড লাক, আশা করি তুমি নিজেকে টিকিয়ে রাখতে পারছ । ভালোবাসা নিও ।
লরেন্স ফেরলিংঘেট্টি
লেবেলসমূহ:
বিট সাহিত্য,
Hungry generation,
Hungryalism
মঙ্গলবার, ৬ মার্চ, ২০১৮
সমীর রায়চৌধুরীকে : সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের চিঠি
17 Ratanbabu Road
Calcutta -2
Phone : 528505
প্রিয় সমীর,
টেলিগ্রাম দুটোর উত্তর পেলাম । চিঠির উত্তর পাইনি, জানতাম পাব না । ইতিমধ্যে তোমার জন্য এতো তীব্রভাবে ফিল করছি যে ফোন নাম্বার জানা থাকলে তোমাকে আজ নিশ্চয়ই ট্রাঙ্ক কল করতাম । তুমি নিশ্চয়ই আমার এই ধরণের করিতকর্মে বিশ্বাস করো, অন্যথায় আমার 'আইডিনটিটি' বলে কিছু নেই। মৌলিকতা নেই । How else to identify my originality ? তুমি ডেকে দ্যাখো ।
পুষণ ফিরে এসেছে । ফোন করেছিল আজ, এসেই । ওদের গাড়ি রাস্তায় খারাপ হয়, ফলকাবাদ ফেরার পথে, তাই তোমাদের জন্যে রাখা সময়ের ব্যবহার করতে পারেনি । দেখা করে আসতে পারেনি বলে কী দুঃখ তাদের । ওরা কানায় কানায় ভরে এসেছে এবং উপচে পড়ার ব্যাপারটা করে দিয়েছ তোমরা, বিশেষত বেলা । আমি পুষণকে প্রথমেই বললাম, 'সে কথা থাক । সমীরের ফোন নাম্বার জানো?'
আসলে আমি প্রায় মাসতিনেক রিনাদের নদীতীরের বাড়িতে থেকে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছি । তাই বহু ক্ষবিসিষ্ট ত্রিতল শতায়ু বাড়িটিতে আজো একটি সচল টেলিফোন এবং রিনার প্রবৃদ্ধ বাবা-মা শুধু থেকে গেছে । একমাত্র দাদাকে ভবানীপুরে থাকতে হয় । আমাদের ও বাড়ির পাম্প ও টিউবওয়েল খারাপ । একতলা থেকে স্খলিত ঘুঙুরের দিনে কয়েকবার শুধু টেলিফোনের শব্দ ককনো পর পর কদিন তাও না । এছাড়া যোগাযোগ হারা বাড়িটি ।
শোনো, সমীর, গিয়ে পড়ছি । পারলে বন্ধুবান্ধবসহ, নইলে বোকার মতো একা গিয়ে পড়ছি । তুমি আগামী দিনপনেরো আছো তো ? একটা শুকনো কুয়ার নিচে টঙ করে বেয়ে উঠে আসছে শূন্য বালতি, দড়িতে ছেঁড়ার পটপট আওয়াজ, ছেঁড়া দড়ি-তন্তুতে সূর্যাস্তরশ্মির মতো আমি পাকে পাকে জড়িয়ে ।
সন্দীপন
( সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধ্যায় হাংরি আন্দোলনে পুলিশের পক্ষে সাক্ষ্য দেবার পর সমীর রায়চৌধুরী তাঁদের চিঠি লিখতেন না । কেউ চিঠি লিখলে টেলিগ্রামে উত্তর দিতেন । বন্ধুরা তবুও সমীর রায়চৌধুরীকে ব্যবহার করে নিতেন । আত্মীয়দের হনিমুন অথবা বেড়াবার জন্য ডাকবাংলো বুক করে দিতে বলতেন, মহুয়ার মদ ও অফিসের আর্দালির ব্যবস্হা করে দিতে বলতেন । সমীর ও তাঁর স্ত্রী বেলা অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্হা করতেন, ঘুরে বেড়াবার জন্য অফিসের গাড়ি দিতেন । এই চিঠিতে সন্দীপনের চাতুর্য ধরা পড়ে যায় । )
সমীর রায়চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী বেলা, তাঁদের বাঁশদ্রোণীর বাড়িতে
Calcutta -2
Phone : 528505
প্রিয় সমীর,
টেলিগ্রাম দুটোর উত্তর পেলাম । চিঠির উত্তর পাইনি, জানতাম পাব না । ইতিমধ্যে তোমার জন্য এতো তীব্রভাবে ফিল করছি যে ফোন নাম্বার জানা থাকলে তোমাকে আজ নিশ্চয়ই ট্রাঙ্ক কল করতাম । তুমি নিশ্চয়ই আমার এই ধরণের করিতকর্মে বিশ্বাস করো, অন্যথায় আমার 'আইডিনটিটি' বলে কিছু নেই। মৌলিকতা নেই । How else to identify my originality ? তুমি ডেকে দ্যাখো ।
পুষণ ফিরে এসেছে । ফোন করেছিল আজ, এসেই । ওদের গাড়ি রাস্তায় খারাপ হয়, ফলকাবাদ ফেরার পথে, তাই তোমাদের জন্যে রাখা সময়ের ব্যবহার করতে পারেনি । দেখা করে আসতে পারেনি বলে কী দুঃখ তাদের । ওরা কানায় কানায় ভরে এসেছে এবং উপচে পড়ার ব্যাপারটা করে দিয়েছ তোমরা, বিশেষত বেলা । আমি পুষণকে প্রথমেই বললাম, 'সে কথা থাক । সমীরের ফোন নাম্বার জানো?'
আসলে আমি প্রায় মাসতিনেক রিনাদের নদীতীরের বাড়িতে থেকে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছি । তাই বহু ক্ষবিসিষ্ট ত্রিতল শতায়ু বাড়িটিতে আজো একটি সচল টেলিফোন এবং রিনার প্রবৃদ্ধ বাবা-মা শুধু থেকে গেছে । একমাত্র দাদাকে ভবানীপুরে থাকতে হয় । আমাদের ও বাড়ির পাম্প ও টিউবওয়েল খারাপ । একতলা থেকে স্খলিত ঘুঙুরের দিনে কয়েকবার শুধু টেলিফোনের শব্দ ককনো পর পর কদিন তাও না । এছাড়া যোগাযোগ হারা বাড়িটি ।
শোনো, সমীর, গিয়ে পড়ছি । পারলে বন্ধুবান্ধবসহ, নইলে বোকার মতো একা গিয়ে পড়ছি । তুমি আগামী দিনপনেরো আছো তো ? একটা শুকনো কুয়ার নিচে টঙ করে বেয়ে উঠে আসছে শূন্য বালতি, দড়িতে ছেঁড়ার পটপট আওয়াজ, ছেঁড়া দড়ি-তন্তুতে সূর্যাস্তরশ্মির মতো আমি পাকে পাকে জড়িয়ে ।
সন্দীপন
( সন্দীপন চট্টোপাধ্যায় ও শক্তি চট্টোপাধ্যায় হাংরি আন্দোলনে পুলিশের পক্ষে সাক্ষ্য দেবার পর সমীর রায়চৌধুরী তাঁদের চিঠি লিখতেন না । কেউ চিঠি লিখলে টেলিগ্রামে উত্তর দিতেন । বন্ধুরা তবুও সমীর রায়চৌধুরীকে ব্যবহার করে নিতেন । আত্মীয়দের হনিমুন অথবা বেড়াবার জন্য ডাকবাংলো বুক করে দিতে বলতেন, মহুয়ার মদ ও অফিসের আর্দালির ব্যবস্হা করে দিতে বলতেন । সমীর ও তাঁর স্ত্রী বেলা অতিথিদের খাওয়া-দাওয়ার ব্যবস্হা করতেন, ঘুরে বেড়াবার জন্য অফিসের গাড়ি দিতেন । এই চিঠিতে সন্দীপনের চাতুর্য ধরা পড়ে যায় । )
সমীর রায়চৌধুরী ও তাঁর স্ত্রী বেলা, তাঁদের বাঁশদ্রোণীর বাড়িতে
সোমবার, ৫ মার্চ, ২০১৮
সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের চিঠি : সমীর রায়চৌধুরীকে
17 Ratanbabu Road
Calcutta -2
Phone 528505
প্রিয় সমীর
মাঝখানে একটা পোস্টকার্ড দিয়েছিলুম । উত্তর দাওনি যথারীতি । যাইহোক । বেলা, হানি, টোটন, বিটুকে নিয়ে সবাই ভালো আছেন এবং থাকবে জানি । তুমি যমাতি ।
কলকাতায় খুবই নিরাপদ কাটছে । শীতলের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক -- নার্সিংহোমে । বিপদ কাটছে । এস. সি. চৌধুরী, আইসিসিইউ, উডল্যাণ্ড নার্সিং হোম, আলিপুর, কলকাতা -২৭ এই ঠিকানায় ওকে চিঠি দিও । ইনটেনসিভ কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে আছে আজ দিন দশেক । আমার মতন থাই-ল্যাণ্ডের অর্কিড ( প্যারাসাইট ) এখন মহীরুহচ্যূত ।
কৃত্তিবাস শারদীয় বেরিয়েছে । ১০১ টি জীবনানন্দের কবিতা* এবং আমার গল্পের জন্য এবার গুদামসাফ রেকর্ড বিক্রি হয়েছে । এছাড়া আমি আর একটা গল্প লিখেছি শারদয় এক্ষণ-এ । দুটোই বেশ বড়ো গল্প । যথেষ্ট ভালো লিখেছি । তাই শ্মশানের শান্তি মনে জেগেছে ।
আর এক কথা । আমার ভাইঝি ডা. মিতালি গাঙ্গুলি, এমবিবিএস, ও তার সদ্যবিবাহিত স্বামী রুনু গাঙ্গুলি ( প্রশান্ত ) এনজিনিয়ার -- এরা বরাইবুরুতে ১১, ১২, ১৩, ১৪ নভেম্বর থাকতে চায় । ঐ চারদিন বুক করে আমাকে টেলিগ্রাম করবে কী, ফোন ?
চিঠির উত্তর দেবে কী ?
সন্দীপন ।
*১০১ জীবনানন্দের অগ্রন্হিত কবিতা : সম্পাদনা সুব্রত রুদ্র ।
( হাংরি আন্দোলন মামলায় পুলিশের পক্ষে সাক্ষ্য দেবার পর সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমীর রায়চৌধুরীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল । সমীর কারোর চিঠির উত্তর দিতেন না । কিন্তু তথাকথিত বন্ধুরা সমীর রায়চৌধুরীকে যখন ইচ্ছা এক্সপ্লয়েট করেছেন । সমীর রায়চৌধুরী "হাওয়া৪৯" পত্রিকা সম্পাদনা আরম্ভ করলে এই বন্ধুরা তাঁকে নিজেদের গল্প-উপন্যাস দিয়ে সাহায্য করেননি । )
Calcutta -2
Phone 528505
প্রিয় সমীর
মাঝখানে একটা পোস্টকার্ড দিয়েছিলুম । উত্তর দাওনি যথারীতি । যাইহোক । বেলা, হানি, টোটন, বিটুকে নিয়ে সবাই ভালো আছেন এবং থাকবে জানি । তুমি যমাতি ।
কলকাতায় খুবই নিরাপদ কাটছে । শীতলের ম্যাসিভ হার্ট অ্যাটাক -- নার্সিংহোমে । বিপদ কাটছে । এস. সি. চৌধুরী, আইসিসিইউ, উডল্যাণ্ড নার্সিং হোম, আলিপুর, কলকাতা -২৭ এই ঠিকানায় ওকে চিঠি দিও । ইনটেনসিভ কার্ডিয়াক কেয়ার ইউনিটে আছে আজ দিন দশেক । আমার মতন থাই-ল্যাণ্ডের অর্কিড ( প্যারাসাইট ) এখন মহীরুহচ্যূত ।
কৃত্তিবাস শারদীয় বেরিয়েছে । ১০১ টি জীবনানন্দের কবিতা* এবং আমার গল্পের জন্য এবার গুদামসাফ রেকর্ড বিক্রি হয়েছে । এছাড়া আমি আর একটা গল্প লিখেছি শারদয় এক্ষণ-এ । দুটোই বেশ বড়ো গল্প । যথেষ্ট ভালো লিখেছি । তাই শ্মশানের শান্তি মনে জেগেছে ।
আর এক কথা । আমার ভাইঝি ডা. মিতালি গাঙ্গুলি, এমবিবিএস, ও তার সদ্যবিবাহিত স্বামী রুনু গাঙ্গুলি ( প্রশান্ত ) এনজিনিয়ার -- এরা বরাইবুরুতে ১১, ১২, ১৩, ১৪ নভেম্বর থাকতে চায় । ঐ চারদিন বুক করে আমাকে টেলিগ্রাম করবে কী, ফোন ?
চিঠির উত্তর দেবে কী ?
সন্দীপন ।
*১০১ জীবনানন্দের অগ্রন্হিত কবিতা : সম্পাদনা সুব্রত রুদ্র ।
( হাংরি আন্দোলন মামলায় পুলিশের পক্ষে সাক্ষ্য দেবার পর সন্দীপন চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমীর রায়চৌধুরীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল । সমীর কারোর চিঠির উত্তর দিতেন না । কিন্তু তথাকথিত বন্ধুরা সমীর রায়চৌধুরীকে যখন ইচ্ছা এক্সপ্লয়েট করেছেন । সমীর রায়চৌধুরী "হাওয়া৪৯" পত্রিকা সম্পাদনা আরম্ভ করলে এই বন্ধুরা তাঁকে নিজেদের গল্প-উপন্যাস দিয়ে সাহায্য করেননি । )
শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের চিঠি : সমীর রায়চৌধুরীকে
১৯ কর্ণেল বিশ্বাস রোড
কলকাতা ১৯
সমীর,
গত সপ্তায় শান্তি খুকু আর বাচ্চাদের নিয়ে চাইবাসা গেল । ওর কাছে তোর চিঠি দেখলাম । কেমন আছিস ? বহুকাল দেখিনি তোদের । ভেবেছিলুম চলে যাবো তোদের দেখতে, মেয়ে আটকে দিল । ওর পরীক্ষা চলছে । আমি থাকলে, নাকি ওর সাহায্য হবে ।
গরমের ছুটিতে তোরা নাকি আসছিস ? কবে আসবি চিঠিতে জানাস ।
তোর বাঁশদ্রোণীর বাড়িটা ভুতুড়ে বাড়ির চেহারা নিয়েছে । তুই তো কালীদাকে চিনিস । কালীদার কমপাউণ্ডার বা Guiding Angel বলতে পারিস কানাইকে । ও কালীদার Chamber-এ থাকে । আমি বলছিলুম Chamber এর পর ও যদি তোর বাড়িতে গিয়ে রাতটা কাটায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজটা করে তাহলে ভালোই হয় । তোর আর বেলার কী মত ? তাহলে তোরা এলে আমি একদিন কানাইকে নিয়ে যাব । আমরা ভালো আছি । হনিবাবু, টোতন, বিটুকে আমার আশীর্বাদ দিস । বেলা কেমন আছে ? তোরা আমার ভালোবাসা নিস ।
শক্তি
৫ এপ্রিল ১৯৮১
( হাংরি আন্দোলন মামলায় পুলিশের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ায় শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমীর রায়চৌধুরীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল । বন্ধুবৎসল সমীর রায়চৌধুরীকে তাঁর বন্ধুরা কেমন এক্সপ্লয়েট করতেন এই চিঠিটি তার নিদর্শন । সমীর রায়চৌধুরী "হাওয়া৪৯" পত্রিকা প্রকাশ করা আরম্ভ করলে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে লেখা দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে যাননি । সমীর রায়চৌধুরীর গল্প ও প্রবন্ধ অন্যত্র প্রকাশের ব্যবস্হাও তাঁরা কখনও করেননি ; কেবল তাঁকে ব্যবহার করেছেন । শক্তি চট্টোপাধ্যায় দুই বৎসর সমীর রায়চৌধুরীর চাইবাসার বাসায় অতিথি হয়ে ছিলেন । )
শান্তি - কবি শান্তি লাহিড়ী
খুকু - শান্তি লাহিড়ির স্ত্রী, সমীরের ছোট শ্যালিকা
বেলা - সমীরের স্ত্রী
হনি - সমীরের মেয়ে
টোটন, বিটু - সমীরের ছেলে
কলকাতা ১৯
সমীর,
গত সপ্তায় শান্তি খুকু আর বাচ্চাদের নিয়ে চাইবাসা গেল । ওর কাছে তোর চিঠি দেখলাম । কেমন আছিস ? বহুকাল দেখিনি তোদের । ভেবেছিলুম চলে যাবো তোদের দেখতে, মেয়ে আটকে দিল । ওর পরীক্ষা চলছে । আমি থাকলে, নাকি ওর সাহায্য হবে ।
গরমের ছুটিতে তোরা নাকি আসছিস ? কবে আসবি চিঠিতে জানাস ।
তোর বাঁশদ্রোণীর বাড়িটা ভুতুড়ে বাড়ির চেহারা নিয়েছে । তুই তো কালীদাকে চিনিস । কালীদার কমপাউণ্ডার বা Guiding Angel বলতে পারিস কানাইকে । ও কালীদার Chamber-এ থাকে । আমি বলছিলুম Chamber এর পর ও যদি তোর বাড়িতে গিয়ে রাতটা কাটায় এবং রক্ষণাবেক্ষণের কাজটা করে তাহলে ভালোই হয় । তোর আর বেলার কী মত ? তাহলে তোরা এলে আমি একদিন কানাইকে নিয়ে যাব । আমরা ভালো আছি । হনিবাবু, টোতন, বিটুকে আমার আশীর্বাদ দিস । বেলা কেমন আছে ? তোরা আমার ভালোবাসা নিস ।
শক্তি
৫ এপ্রিল ১৯৮১
( হাংরি আন্দোলন মামলায় পুলিশের পক্ষে সাক্ষ্য দেয়ায় শক্তি চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে সমীর রায়চৌধুরীর সম্পর্ক ছিন্ন হয়ে গিয়েছিল । বন্ধুবৎসল সমীর রায়চৌধুরীকে তাঁর বন্ধুরা কেমন এক্সপ্লয়েট করতেন এই চিঠিটি তার নিদর্শন । সমীর রায়চৌধুরী "হাওয়া৪৯" পত্রিকা প্রকাশ করা আরম্ভ করলে তাঁর বন্ধুরা তাঁকে লেখা দিয়ে সাহায্য করতে এগিয়ে যাননি । সমীর রায়চৌধুরীর গল্প ও প্রবন্ধ অন্যত্র প্রকাশের ব্যবস্হাও তাঁরা কখনও করেননি ; কেবল তাঁকে ব্যবহার করেছেন । শক্তি চট্টোপাধ্যায় দুই বৎসর সমীর রায়চৌধুরীর চাইবাসার বাসায় অতিথি হয়ে ছিলেন । )
শান্তি - কবি শান্তি লাহিড়ী
খুকু - শান্তি লাহিড়ির স্ত্রী, সমীরের ছোট শ্যালিকা
বেলা - সমীরের স্ত্রী
হনি - সমীরের মেয়ে
টোটন, বিটু - সমীরের ছেলে
বৃহস্পতিবার, ২৭ ডিসেম্বর, ২০১২
অ্যালেন গিন্সবার্গকে লেখা আবু সয়ীদ আইয়ুব-এর চিঠি
কলকাতা ৩১ আক্টোবর ১৯৬৪
প্রিয় মিস্টার গিন্সবার্গ
আমি আপনার ১৩ তারিখের অকারণে অসৌজন্যবিশিষ্ট চিঠিটি পেয়ে বিস্ময়াভিভূত । আপনি যে কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডামকে সাম্যবাদীদের বক্তব্যানুযায়ী জোচ্চোর ও ষাঁড়ের-গোবর বদান্য-বুদ্ধিবাদী কম্যুনিস্টবিরোধী সঙ্ঘ বলে মনে করেন, তা বলাবাহুল্য, আমাকে অবাক করেনি ; কেননা আমি কখনও কংগ্রেসকে 'বুর্জোয়া' ও 'সন্মানীয়' হিসাবে হেয় করার আপনার অভিযোগ অস্বীকার করব না ।
কোনও সুপরিচিত সাহিত্যিক বা বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে তাদের সাহিত্যিক কর্মের জন্য যদি পুলিশ নির্যাতন করে তাহলে আমি নিশ্চিত যে ইনদিয়ান কমিটি ফর কালচারাল ফ্রিডাম আপনার অসন্মানজনক প্ররোচনা ব্যতিরেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে । আমি আপনাকে জানাতে আনন্দ বোধ করছি যে সাম্প্রতিককালে তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি । মলয় রায়চৌধুরী ও তার হাংরি জেনারেশনের সদস্যরা, আমার জ্ঞানানুযায়ী, কোনও বিশেষ সাহিত্যিক অবদান রাখেননি, যদিও তাঁরা বহু আত্মবিজ্ঞাপনমূলক লিফলেট লিখেছেন ও বিতরন করেছেন ; এবং নোংরা ও অশালীন ভাষায় সন্মানীয় নাগরিকদের গালমন্দ করেছেন ( আশা করি "গাঙশালিক কাব্যশৈলীর জারজদের ধর্ষণ করো" বাক্যটিতে 'ধর্ষণ' শব্দটি অশ্লীল ও 'জারজ' শব্দটি নোংরা হিসাবে আপনিও মেনে নেবেন; ওরা এর চেয়েও খারাপ ভাষা বহু কবির ক্ষেত্রে নামোল্লেখ করে প্রবোগ করেছে ) । সম্প্রতি ওরা এক মহিলাকে ভাড়া করে জনসমক্ষে তার উন্মুক্ত বুক প্রদর্শনের ব্যবস্হা করেছিল এবং সেই চমৎকার আভাঁ গার্দ প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করার জন্য অনেকের সঙ্গে আমাকেও নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল ! কলকাতায় অমন বালখিল্য রঙ্গকৌতুককে বিশ্বের অপর পার থেকে উৎসাহ দেয়াকে আপনি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতি কর্তব্য বলে মনে করতে পারেন । আমার কর্তব্য সম্পর্কে আপনার সঙ্গে মতবিরোধের অনুমোদন আপনি করবেন আশা করি ।
এই যুবকদের পাতা ফাঁদে পড়া এবং কয়েকজনকে কয়েকদিনের জন্য হেফাজতে নেয়া পুলিশের পক্ষে নিঃসন্দেহে বোকামি হয়েছে ( তাদের সবাইকে এখন ছেড়ে দেয়া হয়েছে ), এবং তার মাধ্যমে এদের প্রচার ও জনগণের সহানুভূতির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে--- রঙ্গকৌতুকের মাধ্যমে তারা প্রধানত প্রচার পেতেই চাইছিল ।
আমি মনে করি না যে আমেরিকান বিটনিক কবিতার এই সমস্ত অপরিণত অনুকরণকারীদের সমর্থন করা ইনডিয়ান কমিটি ফর কালচারাল ফ্রিডামের প্রধান কাজ । ইউরোপীয় সাহিত্য সম্পর্কে আপনার জ্ঞানকে আমি শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আমার ভাষার সাহিত্যিকদের সম্পর্কে আপনার মতামতের দ্বারা আমি নিজেকে চালিত করার অনুমতি দেব না--- যে ভাষা সম্পর্কে আপনি নিজেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ রাখার অবস্হানটি বেছে নিয়েছেন ।
আমাদের পরস্পরের গভীর মতবিরোধ সত্ত্বেও, এবং আপনার কয়েকটি অপূর্ব কবিতার প্রতি মুগ্ধতাবোধসহ শুভেচ্ছা জানাই ।
ভবদীয়
আবু সয়ীদ আইয়ুব
( সমীর রায়চৌধুরী ও কয়েকজন হাংরি আন্দোলনকারী পরবর্তীকালে আইয়ুব সাএবের সঙ্গে দেখা করলে তিনি স্বীকার করেন যে চিঠিতে ব্যবহৃত তথ্যের জন্য তিনি অন্যের উপর নির্ভর করেছিলেন; তিনি স্বয়ং তথ্যগুলি যাচাই করার প্রয়াস করেননি । )
প্রিয় মিস্টার গিন্সবার্গ
আমি আপনার ১৩ তারিখের অকারণে অসৌজন্যবিশিষ্ট চিঠিটি পেয়ে বিস্ময়াভিভূত । আপনি যে কংগ্রেস ফর কালচারাল ফ্রিডামকে সাম্যবাদীদের বক্তব্যানুযায়ী জোচ্চোর ও ষাঁড়ের-গোবর বদান্য-বুদ্ধিবাদী কম্যুনিস্টবিরোধী সঙ্ঘ বলে মনে করেন, তা বলাবাহুল্য, আমাকে অবাক করেনি ; কেননা আমি কখনও কংগ্রেসকে 'বুর্জোয়া' ও 'সন্মানীয়' হিসাবে হেয় করার আপনার অভিযোগ অস্বীকার করব না ।
কোনও সুপরিচিত সাহিত্যিক বা বুদ্ধিজীবীর বিরুদ্ধে তাদের সাহিত্যিক কর্মের জন্য যদি পুলিশ নির্যাতন করে তাহলে আমি নিশ্চিত যে ইনদিয়ান কমিটি ফর কালচারাল ফ্রিডাম আপনার অসন্মানজনক প্ররোচনা ব্যতিরেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে । আমি আপনাকে জানাতে আনন্দ বোধ করছি যে সাম্প্রতিককালে তেমন কোনও ঘটনা ঘটেনি । মলয় রায়চৌধুরী ও তার হাংরি জেনারেশনের সদস্যরা, আমার জ্ঞানানুযায়ী, কোনও বিশেষ সাহিত্যিক অবদান রাখেননি, যদিও তাঁরা বহু আত্মবিজ্ঞাপনমূলক লিফলেট লিখেছেন ও বিতরন করেছেন ; এবং নোংরা ও অশালীন ভাষায় সন্মানীয় নাগরিকদের গালমন্দ করেছেন ( আশা করি "গাঙশালিক কাব্যশৈলীর জারজদের ধর্ষণ করো" বাক্যটিতে 'ধর্ষণ' শব্দটি অশ্লীল ও 'জারজ' শব্দটি নোংরা হিসাবে আপনিও মেনে নেবেন; ওরা এর চেয়েও খারাপ ভাষা বহু কবির ক্ষেত্রে নামোল্লেখ করে প্রবোগ করেছে ) । সম্প্রতি ওরা এক মহিলাকে ভাড়া করে জনসমক্ষে তার উন্মুক্ত বুক প্রদর্শনের ব্যবস্হা করেছিল এবং সেই চমৎকার আভাঁ গার্দ প্রদর্শনী প্রত্যক্ষ করার জন্য অনেকের সঙ্গে আমাকেও নিমন্ত্রণ জানিয়েছিল ! কলকাতায় অমন বালখিল্য রঙ্গকৌতুককে বিশ্বের অপর পার থেকে উৎসাহ দেয়াকে আপনি সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতি কর্তব্য বলে মনে করতে পারেন । আমার কর্তব্য সম্পর্কে আপনার সঙ্গে মতবিরোধের অনুমোদন আপনি করবেন আশা করি ।
এই যুবকদের পাতা ফাঁদে পড়া এবং কয়েকজনকে কয়েকদিনের জন্য হেফাজতে নেয়া পুলিশের পক্ষে নিঃসন্দেহে বোকামি হয়েছে ( তাদের সবাইকে এখন ছেড়ে দেয়া হয়েছে ), এবং তার মাধ্যমে এদের প্রচার ও জনগণের সহানুভূতির সুযোগ করে দেয়া হয়েছে--- রঙ্গকৌতুকের মাধ্যমে তারা প্রধানত প্রচার পেতেই চাইছিল ।
আমি মনে করি না যে আমেরিকান বিটনিক কবিতার এই সমস্ত অপরিণত অনুকরণকারীদের সমর্থন করা ইনডিয়ান কমিটি ফর কালচারাল ফ্রিডামের প্রধান কাজ । ইউরোপীয় সাহিত্য সম্পর্কে আপনার জ্ঞানকে আমি শ্রদ্ধা করি, কিন্তু আমার ভাষার সাহিত্যিকদের সম্পর্কে আপনার মতামতের দ্বারা আমি নিজেকে চালিত করার অনুমতি দেব না--- যে ভাষা সম্পর্কে আপনি নিজেকে সম্পূর্ণ অজ্ঞ রাখার অবস্হানটি বেছে নিয়েছেন ।
আমাদের পরস্পরের গভীর মতবিরোধ সত্ত্বেও, এবং আপনার কয়েকটি অপূর্ব কবিতার প্রতি মুগ্ধতাবোধসহ শুভেচ্ছা জানাই ।
ভবদীয়
আবু সয়ীদ আইয়ুব
( সমীর রায়চৌধুরী ও কয়েকজন হাংরি আন্দোলনকারী পরবর্তীকালে আইয়ুব সাএবের সঙ্গে দেখা করলে তিনি স্বীকার করেন যে চিঠিতে ব্যবহৃত তথ্যের জন্য তিনি অন্যের উপর নির্ভর করেছিলেন; তিনি স্বয়ং তথ্যগুলি যাচাই করার প্রয়াস করেননি । )
লেবেলসমূহ:
অবাক জলপান,
ষাটের দশক,
সমালোচনা,
হাঁসজারু,
Hungry generation,
Hungryalism
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)












আবু সয়ীদ আইয়ুব